পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা সেবায় গণতুষ্টি অর্জনে এগিয়ে গেল এক ধাপ..... ডাঃ মাহমুদা আখতার

পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা সেবায় গণতুষ্টি অর্জনে এগিয়ে গেল এক ধাপ..... ডাঃ মাহমুদা আখতার

 পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা  স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। চব্বিশতম বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে এটি তার ষষ্ঠ কর্মস্থল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম দায়িত্ব পালন । দায়িত্ব পালনে তিনি কর্তব্য নিষ্ঠ, বিচক্ষন, দক্ষ আর পরিস্থিতি মোকাবেলায় অবিচল। সর্বোপরি নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে একজন নিবেদিত প্রাণ।
ডা: মাহমুদা আখতার পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর । তখন গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য সেবা এক কঠিনতম পরিস্থিতির মুখোমুখি। এমনিতেই দীর্ঘ দিন যাবত পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অনিয়মের ফলে সেবার মান একেবারে তলানিতে। সেবা প্রদানে অনিয়ম আর অবহেলা এখানে নিত্য দিনের ঘটনা। সব দিক গুছিয়ে সেবার মান উন্নয়নে মনোযোগ দিতে গিয়ে তাকে অগ্রাধীকার নির্ধারণ করতে হয় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্ততি গ্রহনের । 
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় রোগী চিহ্নিত করণ, পরীক্ষার জন্য বিশেষ টেষ্ট বুথ স্থাপন, আইসোলেশন ক্যাম্প, জীবানু নাশক ছিটানো , হ্যান্ড ওয়াসের ব্যবস্থা, ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারণা আর সংবাদের  ভিত্তিতে গ্রাম পর্যায় থেকে নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষাসহ তার নানা উদ্যোগ সর্ব মহলে বিশেষভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হয় । 
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এমন একজন সাহসী যোদ্ধার জন্য প্রথম আঘাতটি আসে পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর দুই জন চিকিৎসক উপজেলায় প্রথম কোভিড পজেটিভ হিসেবে চিহ্নিত হবার মধ্য দিয়ে। তখন থেকেই তাকে মোকাবেলা করতে হয় নানান ঠুনকো ঝামেলা। পরবর্তীতে নিজে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা করোনা পজেটিভ হবার পরও দায়িত্ব পালনে তাকে এতটুকু হতোদ্যোম করতে পারেনি।  প্রকৃতি আর পরিস্থিতি দুই অঙ্গনেই তাকে যুদ্ধ করতে হয়। একজন দক্ষ ব্যবস্থাপকের মতই দূঢ়তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি একজন বিচক্ষন ও পারঙ্গম কর্মকর্তার পরিচয় দেন ।            
দীর্ঘ দিনের জমানো নানা সংকট আর দৃশ্যমান অনেক ঘাটতি নিয়েই নতুন আঙ্গীকে ডাঃ মাহমুদা আখতার এর নেতৃত্বে পথ চলতে শুরু করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। তার প্রচেষ্টায় নেয়া হয় বাস্তব সম্মত বেশ কিছু উদ্যোগ। অরক্ষিত সীমানা প্রাচীরের কারনে চারদিক থেকেই সর্বসাধারনের প্রবেশের সুযোগ থাকায় বখাটেদের আনাগোনা পুরো ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয় । ছিল না  ঔষধ সরবরাহ , খাবার পরিবেশনসহ জরুরী প্রয়োজনে রোগীদের সেবার মান কাংখিত পর্যায়ের।  ডা: মাহমুদা আখতার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব নেয়ার পর সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ মনযোগী হন। তিনি হাসপাতালের চারদিকের সীমানা প্রাচীর নির্মান করে একটি মাত্র প্রধান ফটকের মাধ্যমে সকলের যাতায়াত নিশ্চিত করেন। জরুরী সেবা প্রদানে হ্যান্ড ওয়াসসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা বিধানে পুরো আঙ্গীনা সি.সি. ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসেন। রোগীদের লাইনে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ এখন হাসপাতালের নিয়মিত ঘটনা। তিনি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে র্দীঘ কবছর যাবত বিশৃংখল খাদ্য সরবরাহের পরিবর্তন এনে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে রোগীদের খাবার সরবরাহে সুবিধাজনক পরির্বতন আনেন। হাসপাতালে ঢুকলেই চোখে পড়বে রোডষ্টার ভিত্তিতে সার্বক্ষনিক চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালন । বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে জটিল রোগীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা চালু রাখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর একটি অন্যতম উদ্যোগ। তার প্রচেষ্টায় চালু হয় পয়জন অপসারনের বিশেষ স্থান। হাসপাতাল চত্ত্বরে ঢুকলেই নজরে আসে স্থানীয় সহায়তায় পুরো ক্যাম্পাসে বনজ, বৃক্ষ, ফলজ আর ঔষধী গাছের চারা রোপন করে একটি নির্মল সবুজ চত্ত্রে পরিনত করা তার  অন্যতম একটি সফল প্রয়াস ।
আর এতসব কর্মকান্ডের জন্য বিশেষ ভাবে চোখে পড়বে একজন নির্ভৃতচারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সবর উপস্থিতি। যিনি সাধ্যমত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার ব্রত নিয়েই সাজিয়েছেন সমস্ত কর্ম ব্যস্ততা তিনি একজন ডাঃ মাহমুদা আখতার। যার জন্য সর্বসাধারনের চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যায় অনেকখানি।
ডা: মাহমুদা আখতার এর সাথে কথা বলে জানা গেল হাসপাতালে লোকবল সংকট ও চিকিৎসা উপকরনের কিছু অপ্রতুলতা রয়েছে। বর্তমানে ৩১ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত। আর ডেন্টাল চিকিৎসা উপকরনের ঘাটতি সহ আধুনিক এ্যক্সরে মেশিন, আলটাসনোগ্রাম মেশিন সরববাহের জন্য কর্তৃপক্ষকে চাহিদা দিয়েছেন । প্রয়োজনীয় উপকরণ পেলে সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে ।
পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মীদের প্রতি যারা নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছেন । কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সকল অংশিজনের প্রতি যারা নিয়মিত সহায়তা করে যাচ্ছেন। তিনি বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের প্রতি যিনি তার প্রতিটি পথ চলার সাহস ও প্রেরনা যুগিয়েছেন, দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সহায়তা । ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন এর প্রতি যিনি প্রয়োজনীয় মুহুর্তে পাশে থেকে সহায়তা করে যাচ্ছেন । তার অশেষ কৃতজ্ঞতা পূর্বধলার জনগনের প্রতি, দায়িত্ব পালনে সকলের বলিষ্ঠ সমর্থনের জন্য ।
মেধা, যোগ্যতা আর সততার উপর ভর করে একজন জনবান্ধব কর্মকর্তাই পারেন নাগরিকের জন্য সেবার মান নিশ্চিত করে দায়িত্বের প্রতি যথার্থ সম্মান দেখাতে। পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন ডা: মাহমুদা আখতার নিশ্চয় পরবর্তী অনেকের কাছেই প্রেরনা আর উদাহরণ হয়ে থাকবেন দীর্ঘ দিন।
লেখক : সৈয়দ আরিফুজ্জামান
সম্পাদক, আজকের আরবান।