নেত্রকোনার দুগার্পুর-কলমাকান্দা সড়কের বেহালদশা, ঈদ যাত্রায় যাত্রী ভোগান্তি চরমে

নেত্রকোনার দুগার্পুর-কলমাকান্দা সড়কের বেহালদশা, ঈদ যাত্রায় যাত্রী ভোগান্তি চরমে

খলিলুর রহমান শেখ, নেত্রকোনা :    জেলার দুগার্পুর-কলমাকান্দা সড়ক দুই উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। প্রতিদিন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ, যানবাহন থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্সসহ সকল কিছুই যাতায়াত করছে এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এই সড়কটিতে যাত্রীর চাপ বাড়ায় দিনদিন যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু সড়কটির কোন উন্নয়ন হয়নি বরং খারাপ হতে থাকে সকড়টি।
 সড়কটি উন্নয়নের লক্ষ্যে এলজিইডির আওতায় দুর্গাপুর- কলমাকান্দা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কটি নতুন করে সংস্কারের জন্য মোট তিন প্যাকেজে সাড়ে ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যা ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে চলতি বছরের ৬ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি।
 দুর্গাপুর উপজেলার প্রেসক্লাব মোড় থেকে কলমাকান্দা পর্যন্ত প্রায় ২৫কি.মি রাস্তার কিছু অংশে কাজ শেষ হলেও অধিকাংশ রাস্তা ম্যাকাডম করে ফেলে রাখায় বৃষ্টিতে ওই রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। দুটি উপজেলার যোগাযোগের মাধ্যম একমাত্র রাস্তা এ অবস্থায় পড়ে থাকায় ওই এলাকার ঘর মুখো মানুষের ঈদের আনন্দ বিলীন হতে চলেছে। ঠিকাদারদের চরম গাফিলতি ও সড়ক সংস্কারের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার জন্যই এমনটি ঘটছে বলে জানান এলাকাবাসী। রাস্তার আশপাশের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও পড়েছে এর প্রভাব।   সামনে পবিত্র ঈদুল আযহা থাকায় পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ করতে আসা যাত্রী সাধারণ পড়ছে নানা বিড়ম্বনায়। রাস্তার বেহালদশার কারনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। দুর্গাপুর থেকে কলমাকান্দা মাত্র ২৫ কি.মি. এ সড়ক পাড়ি দিতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ও দ্বিগুন ভাড়া পড়িশোধে গন্তব্যে পৌছতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। এ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডলি কনস্ট্রাকশন লিমিেেডর সাথে যোগাযোগ করা হলে, কোন কর্মকতাই কথা বলতে রাজি হয়নি।
  সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এ কাজের জন্য ডলি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কার কাজ শুরু করে। এর মাঝে দুগার্পুর-নাজিরপুর পর্যন্ত ১০ কি.মি একটি প্যাকেজ ও নাজিরপুর- কলমাকান্দা বাজার পর্যন্ত ১৫ কি.মি বাকী দুইটি প্যাকেজের কাজ ধরা হয়। যা চলতি বছরের ৬ই মে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনো সড়কের বেশির ভাগ অংশের কাজই বাকী রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নি¤œমানের ইট দিয়ে ম্যাকাডম করে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে তৈরি হয় ছোট বড় অসংখ্যা খানাখন্দের ফলে প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।  
 ঈদে বাড়িতে আসা কান্দাপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল করিম বলেন, ময়মনসিংহ থেকে গাড়ী নিয়ে ১ ঘন্টায় দুর্গাপুর আসতে পেড়েছি। আর দুর্গাপুর থেকে ১৪কি.মি নিজ গ্রাম কান্দাপাড়ায় যেতে সময় লাগলো প্রায় ২ঘন্টা। সড়কের মাঝে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষ হেটেঁ চলাচল করবে তারও কেনো উপায় নাই। ২-৩ মাস আগে রাস্তায় নি¤œমানের ইটের খোয়া ফেলে গেছে, এর পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠিনের কোনো লোককে আর দেখা যায়নি। স্থানীয় নেতাদের বলিষ্ট ভুমিকা থাকলে ঠিকাদার আমাদের সাথে এ ধরনের ছলচাতুরি করতে পারতো না। আমরা এ সমস্যার দ্রæত সমাধান চাই।
  দুর্গাপুরের অটো চালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘‘রাস্তার কথা কি কইতাম-কাইল বেইল্যার সময়ই আমার গাড়ি উইল্ডা গেছিলগা, আর দুই-একদিন দেখবাম, পরে মিছিল লইয়া টেউনু (ইউএনও) সাইবের বারাত যাইয়াম’’অয় রাস্তা ঠিক করবাইন, নাইলে আমরারে খাউন দেউহাইনা’’। একই সড়কে অটর চালক জসিম উদ্দিন বলেন, আগে সারাদিনে দুই থেকে ৩টি টিভ দিতে পারতো সব অটো চালক, বর্তমানে রাস্তা খারাপ থাকায় একবারের বেশি টিভ দেয়া যায় না। আমরা যারা অটো চালিয়ে সংসার নির্বাহ করছি তাদের এখন মাথায় হাত। সামনে ঈদ, এ অবস্থা চলতে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।
  দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল আলীম লিটন বলেন, কাজটি আরো দুই মাস আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলার দরুন কাজটি এখনো শেষ হয়নি। আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর বহু চাপ সৃষ্টি করার পরেও বিষয়টি আমলে নেয়নি। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সড়কে যাত্রী চাপ বেড়েছে, তার উপর এখন বষার্কাল, সড়কে একটু পানি জমলেই সৃষ্টি হয় খানাখন্দের। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করে রাস্তাটি চলাচলের
উপযোগি করে তোলার জন্য।
 দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা খানম বলেন, দুর্গাপুর থেকে কলমাকান্দা যাওয়ার প্রয়োজন থাকলেও কেউ যেতে চায় না। রাস্তার খারাপ অবস্থা থাকায় ২৫কি.মি রাস্তা যেতে প্রায় ২ঘন্টা সময় লেগে যায়। যথা সময়ে রাস্তার কাজ শেষ করার জন্য ইতোমধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দেয়ার পরেও কোন কাজ করছে না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা ভেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। এর পরেও কোন কাজ না হলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।