মদনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের সিংহভাগ বরাদ্দকৃত অর্থ হরিলুটের অভিযোগ

 মদনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের সিংহভাগ বরাদ্দকৃত অর্থ হরিলুটের অভিযোগ

মোতাহার আলম চৌধুরী, মদন(নেত্রকোনা) ঃ নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৯৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, ভবন ও স্থাপনা খাতে বরাদ্দকৃত সিংহভাগ অর্থ হরিলুট করার অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়, ২০১৮/১৯ অর্থ বছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় ভবন ও স্থাপনা খাতে ১৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ টাকা , ২০ টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭৭ টি বিদ্যালয়ে স্লীপের  ৫০-৭০ হাজার টাকা ও বিদ্যালয়ের  প্রাক-প্রাথমিক কক্ষ সজ্জিত করার জন্য ৯৪ টি বিদ্যালয়ে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে কোনো বিদ্যালয় কাজ সম্পন্ন না করে  সংশ্লিষ্ট অফিস ম্যানেজ করে ভুয়া অগ্রিম বাউচারের মাধ্যেমে ৩০ জুনের মধ্যেই সব টাকা উত্তোলণ করে নিয়ে গেছে। অনেক বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি জানে না কোন খাতে  কত বরাদ্দ এসেছে। এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, বিল উত্তোলণের জন্য শিক্ষা অফিসে ২-৩ হাজার, ইঞ্জিনিয়ার অফিসে ৬ হাজার, ইউএনও অফিসে ২ হাজার, ট্রেজারী অফিসে ১ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়েছে।এতে কারো পক্ষে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
সোমবার সরজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে, রুদ্রশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রাধন শিক্ষক মাসুদুল আলম জানান,আমার বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত স্লীপের ৭০ হাজার ও প্রাক-প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকা উত্তোলণ করে বিদ্যুৎ এর কিছু কাজ করেছি। বাকী টাকার কাজ অচিরেই করব। তবে সংশ্লিষ্ট অফিসে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় তাই শতভাগ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি রওশন আরা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদুল আলম আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে প্রতারণা করে বিভিন্ন কাগজে আমার স্বাক্ষর নিয়ে যায় তবে স্লীপের ৭০ হাজার টাকার  চেকে আমি স্বাক্ষর করিনি।এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আমার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেনা। সম্প্রতি কিছু লোকের সামনে মাসুদুল মাস্টার আমাকে ঘুষ দিতে চেয়েছিল যা আমি নেয়নি । এ বিষয়টি আমি শিক্ষা অফিস কে অবগত করেছি।
শিবপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই দিন সরজমিনে গেলে কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি। প্রধান শিক্ষক কোকিল মিয়াকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাবাদ করলে বলেন, আমার বিদ্যালয়ের স্লীপের ৭০ হাজার ও প্রাক-প্রাথমিকের ১০ হাজার মোট ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাই। এর মধ্যে ভ্যাট, আয়কর ও অফিস খরচ বাদ দিয়ে ৬১ হাজার ৫শ টাকা পাই। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক কক্ষের সিলিং করেছি বাকী টাকার কাজ অচিরেই সম্পন্ন করব। উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলামকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি  বিদ্যালয়ের উন্নয়নের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। খোজ নিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করবেন বলে আশ্ব্যস্ত করেন।
মাখনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে রং ও কিছু নতুন টিন দিয়ে দায়সারা গোচের কিছু কাজ চোখে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল হাসান জানান, স্লীপ ও প্রাক-প্রাথমিকের ৮০ হাজার , রাজস্ব বাজেটের আওতায় ভবন ও স্থাপনা সংস্কারের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ২ লাখ ৩০ হাজার বরাদ্দ পাই। প্রতিটি খাতেই ভ্যাট, আয়কর ছাড়াও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ৩ হাজার, উপজেলা প্রকৌশলী ৬ হাজার, উপজেলা নির্বাহী অফিস ২ হাজার, ট্রেজারী অফিস ১ হাজার টাকা দিয়ে শতভাগ কাজ করা আমাদের দ্বারা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী শাহরিয়ার প্রতি বিদ্যালয়ের ঘুষের ৬ হাজার টাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, সময়-স্বল্পতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বিদ্যালয়ে না গিয়ে শিক্ষক ও কমিটির চাহিদানুযায়ী প্রাক্কলন করে দিয়েছি যাতে টাকা ফেরৎ না যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা জানান, এ কাজের জন্য আমার অফিসের ২ জন উপ-সহকারি প্রকৌশলী মজিবুর ও শাহরিয়ারকে দায়িত্ব দিয়ে ছিলাম। যদি কেহ তাদেরকে ঘুষ দিয়ে থাকেন ,কার কাছে দিয়েছেন অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেব।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার সূত্রধর ঘুষের টাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার নাম করে কেহ টাকা নিতে পারে তবে আমি কোনো টাকা নেয়নি। সময় স্বল্পতার কারণে অগ্রিম বাউচারের মাধ্যেমে টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে কাজ করার জন্য। তবে অনেক বিদ্যালয়ের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আতিকুল ইসলাম জানান, ইউএনও স্যার দেশের বাইরে আছেন । এ বিষয়টি আমার জানা নেই।