অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নেত্রকোনার ১৫টি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নেত্রকোনার ১৫টি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

এ কে এম আব্দুল্লাহ, নেত্রকোনা ঃ টানা চার দিন ধরে অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার তিনটি উপজেলা কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টায় ১৫টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে কলমাকান্দা উপজেলায় বেশি। বন্যায় তিন উপজেলায় অন্তত দুই শতাধিক গ্রামে প্রায় ৩০ হাজারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকছে। গ্রামীণ বেশ কয়েকটি সড়ক পানির নিচে থাকায় উপজেলা ও জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।  
       স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার থেকে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার প্রধান নদী কংস, সোমেশ্বরী, ধনু, উব্দাখালিতে পানি বিপদ সীমার ওপরে রয়েছে। বন্যায় কলমাকান্দার আটটি ইউনিয়ন কলমাকান্দা সদর, বড়খাপন, রংছাতি, লেঙ্গুরা, খারনৈ, নাজিরপুর, পোগলা, ও কৈলাটি এবং দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া, কুল্লাগড়া, বাকলজোড়া, কাকৈরগড়া ও বিরিশিরির আংশিক এলাকা এবং বারহাট্টার রায়পুর ও বাউসী ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এতে করে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকছে। কলমাকান্দার পাঁচগাও, লেঙ্গুরা, বড়খাপন, চারালকোনাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ বাজার পানির নিচে রয়েছে। এ ছাড়া বড়খাপন, চানপুর, ধীতপুর, পাঁচকাঠা, পালপাড়া, কলেজ রোডসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ পাঁকাসড়ক পানির নিচে থাকায় মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারে পানি প্রবেশ করে মাছ ভেসে গেছে। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। দুর্গাপুরে বিরিশিরি ও কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ১৯৬টি পরিবার ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
       কলমাকান্দা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ১৫২টি বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সংযোগ সড়ক ডুবে যাওয়ায় ১২টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে দুর্গাপুরের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের ভূঁইয়া জানান, ওই উপজেলার ২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।’
      কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল খালেক তালুকদার বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কলামাকান্দায় দুই শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। ওই এলাকার জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীদের মাঝে শুকনো খাবারের বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
    দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানম বলেন, ‘পাঁচটি ইউনিয়নে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। যাদের বাড়ী ঘরে পানি ঢুকছে তাদেরকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদসহ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে  যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
   বারহাট্টার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘বন্যায় বাউসী ও রায়পুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আমি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধনণের সহায়তা প্রদান করা হবে।
       জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার জন্য আপাদত ২০ মেট্রিক টন জি আর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও দুই উপজেলায় ৬শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
    নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন পয়েন্টে সোমেশ্বরী, কংস, উব্দাখালিসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার কিছুটা ওপরে রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত কমলে পানি সরে যাবে।