কেন্দুয়ায় প্রশ্ন ফাঁস মামলায় ১১ শিক্ষক বরখাস্ত ১২ নারী সহ ৩২ আসামী কারাগারে

কেন্দুয়ায় প্রশ্ন ফাঁস মামলায় ১১ শিক্ষক বরখাস্ত ১২ নারী সহ ৩২ আসামী কারাগারে

মহসীন কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃ  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে সংগ্রহ করে প্রচারনা ও জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীর কাছে সরবরাহ করার অভিযোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ প্রধান শিক্ষক সহ ১১ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ-পরিচালক ও নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাদেরকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
    এদিকে ওই আলোচিত মামলায় ১২ নারী সহ ৩২ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত। নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ উবায়দুল্লাহ জানান, বরখাস্তকৃত শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে রয়েছে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ছোটন, তার স্ত্রী নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাওয়া বেগম, পোড়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক আব্দুস সাকি, তার স্ত্রী কেন্দুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহমিনা আক্তার, পানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুহিন আক্তার, বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মরিয়ম আক্তার, ব্যবসায়ী আবুল বাশারের বোন নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লিপা মুনালিসা, দিগদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজিবুর রহমান, মদন উপজেলার খাগরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লাকি আক্তার, জঙ্গলটেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জেবুন্নাহার ডলি ও আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্মৃতি খানম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, ২ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলার প্রধান আসামী আব্দুল মান্নান ছোটন, নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, শহিদুজ্জামান মিন্টু, ব্যাবসায়ী আবুলবাশার, বিকাশ দে, জুয়েল মিয়া, বিলাশ সরকার ও দিগদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মজিবুর রহমান প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। পরে বুধবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
    এদিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির নামে জনৈক আনোয়ার হোসেন ভূঞার ছবি ব্যাবহার করে খোলা ফেসবুক আইডির সূত্র ধরে বুধবার সন্ধ্যার পর চন্দগাতী গ্রামের আনোয়ার হোসেন ভূঞাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া। বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের সম্পৃক্ততা না পেয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, তবে তাকে নিবির পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। পরবর্তী যে কোন সময় মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে আবার ডাকা হতে পারে। এদিকে এখনও পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছেন শিল্পপতি মনিরুজ্জামান ভূঞা শামিম, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল মোমেন, নেত্রকোনা কৃষ্ণগোবিন্দ হাইস্কুলের শিক্ষক ঝন্টু ও উন্মেষ হাইস্কুলের শিক্ষক রিপন।
    উল্লেখ্য গত ২৮ জুন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেত্রকোনা জেলা সদরে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রটি ওই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকের সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তি ও লেনদেন করে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে প্রতারনা ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ কাজে বসেছিল পৌর শহরের টেঙ্গুরী ছয়আনি মহল্লার শিল্পপতি মনিরুজ্জান ভূঞা শামিমের দোতলা ঘরে। পুলিশ খবর পেয়ে সকাল পৌনে ১১ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে দুটি ল্যাপটপ, একটি ব্যাটারী, দুটি মডেম, ৭টি মোবাইল, একটি চার্জার ও অন্যান্য গাইডবই ও কাগজপত্র সহ ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল জব্দ করে। কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, প্রথম ধাপে ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বিকার করেছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে রিমান্ডে এনে বাকীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।