মদনে বাস্তা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার গাছ বিক্রির অভিযোগে সুপারসহ ৪ জনের নামে মামলা

মদনে বাস্তা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার গাছ বিক্রির অভিযোগে সুপারসহ ৪ জনের নামে মামলা

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃ  দীর্ঘ দিন ধরে বাস্তা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে রোপনকৃত গাছ কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করে ব্যাংকে টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগে উক্ত মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সুপারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে নেত্রকোণার বিজ্ঞজুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মদন থানায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।  

মামলা সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সুপার মোঃ  আজিজুল হক, সহকারি শিক্ষক ও করনিক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী,আরবি শিক্ষক মোঃ নূরে আলম খান ও উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মুসলিম মিয়া পরস্পর যোগসাজুশে তিন ধপায়  মাদ্রাসার প্রাঙ্গন থেকে ২০টি গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়। যার আনুমানিক মূল্য ২লাখ ৩৩ হাজার টাকা। উক্ত টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেরাই আতœসাৎ করেছে। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ আনোয়ারুল হক হীরা মাদ্রাসার সুপারকে একাধিকবার বলার পরেও কোন সদুত্তর না পাওয়ায়  নেত্রকোণার বিজ্ঞজুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩০ মে ২০১৯ ইং তারিখে সুপারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত অভিযোগটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য  মদন থানায় প্রেরণ করেন। এস আই সামছুল আলমকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সরজমিনে আমাদের এ প্রতিনিধি গেলে, একাধিক গাছ  কাটার নমুনা দেখতে পায়। তবে সুপার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জানান,এ গাছ গুলো অনেকদিন আগের কাটা। গাছ বিক্রির টাকা মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে। মাদ্রাসা প্রাঙ্গনের গাছ ক্রয়কারী বাস্তা গ্রামের শাহ আলম সেতারা চৌধুরী জানান, ম্দ্রাাসার সুপার আজিজুল হকের নিকট থেকে ২০/২৫টি গাছ নগদ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে কিছু দিন আগে ক্রয় করেছি। আরো কয়েকজনের নিকট সুপার গাছ বিক্রি করেছে।  

মামলার বাদী  মোঃ আনোয়ারুল হক হীরা বলেন,মাদ্রাসার সুপার ,ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শিক্ষকের যোগসাজুশে গাছ বিক্রি করে  ২ লাখ  ৩৩ হাজার টাকা আতœসাৎ করেছেন। টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য বার বার তাগিদ করলেও জমা দেয়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে  কোর্টে মামলা করি।  

এস আই সামছুল আলম জানান, কোর্ট থেকে বাস্তা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার গাছ কাটার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিলে ওসি মহোদয় আমাকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেন। আমি ১ জুলাই  মঙ্গলবার মাদ্রাসায় গিয়ে  অভিযোগটি তদন্ত করি এবং বাদী-বিবাদী উভয়ের সাক্ষাৎকার নেই। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিছু কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় বুধবার প্রতিবেদনটি কোর্টে জমা দিতে পারিনি। তবে দ্রুত প্রতিবেদনটি কোর্টে প্রেরণ করা হবে। সুপার মোঃ আজিজুল হক জানান, মামলাটি যে ভাবে দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি কুচক্রী  মহল সমাজে আমাকে হেয় করার জন্য নানা ভাবে চক্রান্ত করছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মুসলিম মিয়া জানান,আমি দায়িত্ব নেয়ার পর কোন গাছ মাদ্রাসার প্রাঙ্গন থেকে কাটা হয়নি।