কেন্দুয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় ৮ আসামীকে ২ দিনের রিমান্ডে এনেছে পুলিশ

কেন্দুয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় ৮ আসামীকে ২ দিনের রিমান্ডে এনেছে পুলিশ

মহসীন, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে সংগ্রহ করে প্রতারনা ও জালিয়াতি করে উত্তরপত্র সরবরাহ করার অপরাধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনে দায়ের করা মামলায় ৩২ জন আসামীকে সোমবার নেত্রকোনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। একই সঙ্গে এজাহারভূক্ত ৩৭ জনের মধ্যে প্রথম ধাপে ৮ জনকে আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালতের বিচারক ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান জানান, মামলার প্রধান আসামী বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলহুতা আব্দুল মান্নান ছোটন, নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবুল বাশার, নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুজ্জামান মিন্টু, বিকাশ দে, জুয়েল মিয়া, বিলাশ সরকার ও দিগদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মজিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হয়েছে।
    সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হবে। তিনি জানান, প্রথম ধাপে ৮ জনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে অন্যান্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এদিকে মামলায় এজাহার ভূক্ত আসামীদের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব ও পোষ্ট অফিসে জমাকৃত অবৈধ টাকা পয়সার খোজ খরব নিচ্ছে পুলিশ। মামলার তদন্তের স্বার্থে এজাহার ভূক্ত আসামীদের ব্যাংক হিসাব ও পোষ্ট অফিসে কোন প্রকার লেনদেন বন্ধরাখারও আবেদন জানাবে পুলিশ।  
    গত ২৮ জুন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেত্রকোনা জেলা সদরের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কারো কারো সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তি ও লেনদেন করে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে প্রতারনার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের উত্তর সরবরাহের কাজে জড়িত ছিল একটি শক্তিশালী চক্র। তারা কেন্দুয়া পৌর এলাকার টেঙ্গুরী ছয়আনি মহল্লার শিল্পপতি মনিরুজ্জামান শামিমের বাড়িতে বসে এ কাজ করছিল। কেন্দুয়া থানা পুলিশ গোপনসূত্রে খবর পেয়ে শিল্পপতি মনিরুজ্জামান ভূঞা শামিমের বাড়ি ঘেরাও করে। সকাল পৌনে ১১টা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে ওই দুতালা বাড়ির কক্ষে প্রবেশ করে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করে। এসময় পুলিশ ২টি ল্যাপটপ, ১টি ব্যাটারি, ২টি মডেম, ৭টি মোবাইল, ১টি চার্জার ও অন্যান্য গাইড বই সহ ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল জব্দ করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কেন্দুয়া উপজেলা ছাড়াও নেত্রকোনা সদর বারহাট্টা উপজেলার চল্লিশা কাহনিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ লুৎফুর, রায়পুর গ্রামের মন্দনের ছেলে শ্রী রাজন, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে লোকমান হোসেন, গৌরীপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ নাজমুল ইসলাম, বারহাট্টা উপজেলার মাহাজনপাড়া গ্রামের ফিরোজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ শরিফ, আটপাড়া উপজেলার মঙ্গলশ্রী গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে মনি আক্তার, গৌরীপুর উপজেলার খোদাবক্সপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে তাসলিমা, নেত্রকোনা সদর উপজেলার উন্মেষ হাই স্কুলের শিক্ষক রিপন, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রভাষক মোমেন ও নেত্রকোনা কৃষ্ণগোবিন্দ হাইস্কুলের শিক্ষক ঝন্টু জড়িত রয়েছেন।
    এদের মধ্য থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন সহকারী শিক্ষককে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ উবায়দুল্লাহ সাময়িক ভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক যারা ওই ঘটনায় জড়িত আছে তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম তাজুর সঙ্গে সহকারী শিক্ষক শহিদুজ্জামান মিন্টু ও আজহারুল ইসলামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে গ্রেফতারও হয়েছে কিন্তু তাদের বিষয়ে পরিচালনা কমিটি কি সিদ্ধান্ত নেবে সে বিষয়ে আমরা এখনও কোন দিক নির্দেশনা পাইনি। দিক নির্দেশনা পেলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেব।