কলমাকান্দায় পাহাড়ী ঢলের পানিতে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি ঃ যুবক নিখোঁজ

কলমাকান্দায় পাহাড়ী ঢলের পানিতে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি ঃ যুবক নিখোঁজ

এ কে এম আব্দুল্লাহ, নেত্রকোনা ঃ গত তিন দিনের প্রবল বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও হান্নান মিয়া (২৩) নামক এব যুবক নিখোঁজ রয়েছে।
     স্থানীয় এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার থেকে নেত্রকোনায় প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে কলমাকান্দা উপজেলার পাচগাঁও এলাকায় নদীর বেরী বাঁধ ভেঙে ভারতীয় সীমান্তবর্তী রংছাতি, খারনৈ ও লেংগুরা ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার ও তাদের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ী ঢলের তোড়ে অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ১০ কিলোমিটার কাচা রাস্তা। ভেসে গেছে চাষ করা শতাধিক পুকুরের মাছ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি বৃদ্ধি এখনো অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উপজেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭৫ মিলিমিটার। ভারী বর্ষণ ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নতুন করে কলমাকান্দা সদর, পোগলা, বড়কাপন, নাজিরপুর ও কৈলাটি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের আরো অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।
পাহাড়ী ঢলে প্লাবিত গ্রামসমূহ হলো- রংছাতি ইউনিয়নের পাঁচগাঁও, ধারাপাড়া, নয়া চৈতাপাড়া, রামনাথপুর, নংক্লাই, কৃষ্টপুর, রায়পুর, নতুন বাজার, বারমারা, খারনৈ ইউনিয়নের সুন্দরীঘাট, বাউশাম, ভাষানকুড়া, লেংগুরা ইউনিয়নের চৈতা, লেংগুরা বাজার, ফুলবাড়ি, ঝিগাতলা ও শিবপুর।  
     পাহাড়ী ঢলের তোড়ে লেংগুরা ইউনিয়নের চৈতা গ্রামের আহমেদ মিয়ার ছেলে হান্নান(২৩) নামক এক যুবক নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের লোকজনের দাবী, হান্নান গত বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টিপাত চলাকালে বাড়ির পাশে গণেশ্বরী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হবার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও শুক্রবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ী ঢলের তোড়ে হান্নান নদীতে তলিয়ে হয় তো বা মারা গেছে।
      রংছাতি ইউনিয়নের শিংকাটা গ্রামের নূরুল ইসলাম ও চৈতা গ্রামের ইসমাইল মিয়া বলেন, আমরা বুধবার থেকে পানিবন্দি হয়ে আছি। আমরার দুর্ভোগ-দুর্দশার অন্ত নাই। ঘরবাড়িত পানি ঢুইক্যা পড়ায় রান্না কইরা খাইতে পারতাছিনা। এহন পর্যন্ত মেম্বার, চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসনের কোন লোক আমরার কোন খোঁজ খবর নিতে আসেনি। নকলাই গ্রামের বাসিন্দা মাহালার মারটিং রংরিং বলেন, পাহাড়ী ঢলের তোড়ে আমার বসতঘরটি ভেঙে গেছে।
      পাহাড়ী ঢলে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি লোকজন রয়েছে চরম দুর্ভোগে। বেশীরভাগ লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন নিরাপদে থাকা স্বজনদের বাড়িঘরে। কেউবা বাড়িতে উচু করে মাচা বেধেঁ সেখানে রাত্রি যাপন করছে। পানিবন্দি অধিকাংশ পরিবার কাজে যেতে না পারায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে রয়েছে খাদ্য সংকটে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বেশীরভাগ পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর না নেওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভূক্তভোগীরা।
       এ ব্যাপারে রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহেরা খাতুন জানান, এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনিসহ পরিষদের সদস্যরা প্রশিক্ষণে আছেন। এতে করে তারা এলাকায় যেতে পারছেন না।
       কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পাহাড়ী ঢলে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক তালুকদারসহ  তিনি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ইতিমধ্যে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।