ঈশ্বরগঞ্জে জামিনে এসে বাদীকে হুমকি থানায় অভিযোগ

ঈশ্বরগঞ্জে জামিনে এসে বাদীকে হুমকি থানায় অভিযোগ

, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ  আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের মাঝিয়াকান্দি গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের পুত্র রেজাউল করিমের জমির ধান প্রতিপক্ষরা রাতের আঁধারে কেটে নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগের পর বিবাদী পক্ষ জামিনে এসে বাদীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী রেজাউল করিম রোববার রাতে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগ সূত্র জানা যায়, মাঝিয়াকান্দি গ্রামের রেজাউল করিমের ৪০শতাংশ নিষ্কন্টক পৈত্রিক সম্পত্তি বিগত ত্রিশ বছর ধরে সুষ্ঠু বন্টন পত্র দলিল, বিআরএস, খাজনা খারিজ মূলে উক্ত জমিতে চাষাবাদ ক্রমে ফসলাদি উৎপাদন বাঁশ ঝাড় রোপন ও পুকুর খনন করে ভোগ দখল করে আসছেন। এব্যপারে ভুক্তভোগি রেজাউল করিম জানান, পূর্ব শত্রুতা বশত বিবাদীগণ ১৬ নভেম্বর আমাদের জমি হইতে ধান কাটিয়া নিয়া যায়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি বাদী হইয়া বিবাদীদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানার মামলা নং- ১৬, তারিখ- ১৮/১১/২০২১ ইং, ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড দায়ের করি। উক্ত মামলায় বিবাদীগণ জামিনে আসিয়া আমাদেরকে পুনরায় ভয় হুমকি দিয়া আসিতেছে। এঘটনায় ২১ নভেম্বর রবিবার বিকালে আমাদের বসত বাড়ির সামনে আসিয়া আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের ভয় হুমকি প্রদান করে। উক্ত ঘটনা দেখিয়া আমার চাচাত ভাই মোস্তাকিম বাপ্পি বিবাদীদেরকে বাধা নিষেধ করিলে বিবাদীগণ ক্ষিপ্ত হইয়া আমার চাচাত ভাইকে মারধর করিতে উদ্ধত হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আশরাফুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিবাদী জামিনে এসে হুমকির অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বিবাদী পক্ষকে রেজাউলের জমিতে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।  উল্লেখ্যঃ কিন্তু রেজাউলের জনবল না থাকায় একই বাড়ির প্রতিপক্ষ আব্দুল মতিন, রোকিয়া বেগম, রাজু মিয়া, রানা মিয়া বন্টন নামায় ভূল রয়েছে দাবি করে রেজাউলের জমিতে প্রবেশ করে রাতের আঁধারে খেতে ধানের চারা রোপন করে। পরে রেজাউল স্থানীয় এলাকাবাসীর সহয়তায় তাদের রোপনকৃত ধান ভেঙ্গে রেজাউল পুনরায় খেতে ধান চাষ করে পরিচর্চা করে আসছিল। এতে প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়ে খেতে ধান কেটে নিয়ে জমি দখল করার হুমকি দিয়ে আসছিল। প্রতিপক্ষের হুমকীর পরিপ্রেক্ষিতে এই জমি নিয়ে ময়মনসিংহ সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ জমিতে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষে ১৭ আগস্ট ময়মনসিংহ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজধারী কার্যবিধি ১৪৪ ধারায় মামলা রুজু করেন। ১৬ নভেম্বর ছিল মামলার শুনানির দিন। বিজ্ঞ আদালত বাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ১৪৪ধারায় প্রসেডিং দিয়ে ২য় পক্ষকে জমিতে প্রবেশে বারিত করে। আদালত থেকে নির্দেশনামা পাঠানোর পূর্বেই আসামিগণ ওইদিন রাতেই রেজাউলের ৪০শতাংশ জমির আধাপাকা ধান কেটে নিয়ে যায়।