কেন্দুয়ার সমিতির কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ করতে হামলা, ভাঙচুর, মামলা  প্রতিবন্ধী নারীসহ আহত ২০

কেন্দুয়ার সমিতির কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ করতে হামলা, ভাঙচুর, মামলা  প্রতিবন্ধী নারীসহ আহত ২০

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ১১ নং চিরাং ইউনিয়নে চিথোলিয়া সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সমিতির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করতে হামলা, বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মৌজে চিথোলিয়া সমাজ কল্যাাণ উন্নয়ন সমিতি নামে ১৯৭৮ সালে সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রামীন সমাজ ব্যবস্থা সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। সমিতির কর্র্মকান্ডে সন্তুষ্ট হয়ে সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন মূলে ১৯৮১ সালে সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত হয়। সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে গ্রামের দুইটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। গত ২০১৬ সাল হতে সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আতাউর রহমান খান পরপর ৩ বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর সমিতির নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সমাজসেবা অধিদপ্তর করোনা মহামারি মোকাবিলা করার জন্য ১৯৬১ সালের ৯(২) ধারা অনুযায়ী আতাউর রহমান খানকে তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সদস্য সচিব নির্বাচিত করেন। ওই কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুসুর রহমান। সমিতির কমিটি গঠন নিয়ে গ্রামে আলোচনার চেষ্টা করেন আতাউর রহমান ও সমিতির লোকজন। কিন্তু একই গ্রামের আব্দুল হামিদ আকন্দ ও তার লোকজন সমিতিতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সমিতির কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করেন। সমিতির নির্বাচন ও কমিটি গঠন নিয়ে একাধিকবরা আলোচনা হয়। আব্দুল হামিদ আকন্দ ও তার লোকজনকে ডাকা হলে তারা আলোচনায় যোগ দেন নি। গত ১৪ নভেম্বর তাদেরকে পূনঃরায় ডাকতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মাঝে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের দুটি বাড়ি ভাঙচুর এবং প্রতিবন্ধী নারীসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ কেন্দুয়া থানায় পাল্টপাল্টি মামলা করেছে।
 কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুসুর রহমান জানান, সমিতিতে কোন ধরনের অনিয়ম নেই। সমিতির কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির কারনে হামলা মামলার ঘটনা ঘটছে। 
 কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহ্নেওয়াজ জানান, চিথোলিয়া গ্রামে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় একটি দ্রুত বিচার আইনে মামলাসহ পল্টাপাল্টি দুইটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলারই তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 
 কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঈনউদ্দিন খন্দকার জানান, চিথোলিয়া সমিতির কার্যক্রম খুবই ভাল। অনিয়ম বা আত্মসাতের কোন বিষয় নেই। সমিতিতি আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধ চলছে। ওই দ্বন্ধের কারনেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।