কেন্দুয়ার চিথোলিয়ায় সমাজ কল্যাণ সমিতির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করতে হামলা ও বসতবাড়ী ভাঙচুুরের অভিযোগে থানায় মামলা

কেন্দুয়ার চিথোলিয়ায় সমাজ কল্যাণ সমিতির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করতে হামলা ও বসতবাড়ী ভাঙচুুরের অভিযোগে থানায় মামলা

কেন্দুয়া প্রতিনিধি : কেন্দুয়া উপজেলার ১১ নং চিরাং ইউনিয়নে চিথোলিয়া সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সমিতির কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্থ করতে হামলা ও আব্দুল লতিফের বসতবাড়ী ভাঙচুরের অভিযোগে বুধবার রাতে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই গ্রামে হাবিবুর রহমানের ছেলে আতাউর রহমান খান বাদী হয়ে আব্দুল হামিদ আকন্দকে প্রধান আসামী করে ৩৫ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে  এ মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, মামলার আসামীগণ একদল গুন্ডা, দাঙ্গাবাজ, পরধন লোভী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তারা মৌজে চিথোলিয়া সমাজ কল্যাাণ উন্নয়ন সমিতি নামক একটি সমিতির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করতে চায়। যে সমিতিটি ১৯৭৮ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গ্রামীন সমাজ ব্যবস্থা সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। ওই কর্তকান্ডে সন্তুষ্ট হয়ে সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন মূলে ১৯৮১ সালে সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত হয়। যার রেজি নং- ম ২০৫।  
গত ২০১৬ সাল হতে সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আতাউর রহমান খান পরপর ৩ বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর সমিতির নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সমাজসেবা অধিদপ্তর করোনা মহামারি মোকাবিলা করার জন্য ১৯৬১ সালের ৯(২) ধারা অনুযায়ী আতাউর রহমান খানকে তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সদস্য সচিব নির্বাচিত করেন। ওই কমিটির আহ্বাহয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। 
আতাউর রহমান খান জানান গত ৫ বছরে সমিতির আয় ছয় গুণ বৃদ্ধি হওয়ায় আসামীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওই গ্রামের মানুষের প্রাণপ্রিয় সমিতির উন্নয়ন কাজের বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময় বাধা সৃষ্টি করে আসছে। এমনকি নেত্রকোণা জেলার যুগ্ম জজ ও কেন্দুয়া সহকারী জজ আদালতে সমিতির ক্ষতিসাধনের উদ্দ্যেশে পরপর দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি মামলায় আদালতের বিচারক বাদীদের বিরুদ্ধে সমিতির পক্ষে রায় প্রদান করেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে গত ১৪ নভেম্বর সকাল অনুমান ৯ ঘটিকার সময় আসামীরা ধারালো অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুল লতিফের বসতবাড়ী ব্যাপক ভাবে ভাঙচুর চালায়। এসময় আসামীগণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে নিরিহ লোকদের উপর ঝাঁপিয়ে পরে। এসময় আসামীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। আশঙ্কা জনক অবস্থায় আহতদের স্থানীয় কেন্দুয়া হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।  আহতদের মধ্যে মালা আক্তার (২৫) নামে ১জন প্রতিবন্ধী মেয়েকে লোহার বল্লম দিয়ে চোখে  আঘাত করলে একটি  চোখ নষ্ট হয়ে যায়। 
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আশংখা জনক অবস্থায় তাকে জাতীয় চক্ষু হাসপাতাল ঢাকাতে চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
 সমিতির ৩ বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী আতাউর রহমান বলেন, এই সমিতিতে কোন অনিয়ম দুর্নিতি বা আত্মসাতের কোন ঘটনা ঘটেনি। যা বার্ষিক রিপোর্টের হিসাব নিকাশে পরিচ্ছন্ন প্রতিবেদন দেয়া আছে। কিন্তু সমিতির কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে আসামীগণ টাকা আত্মসাতের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে, যার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। তিনি এসব অপপ্রচার ও আব্দুল লতিফের বসতবাড়ী ভাঙচুরের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবিসহ আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। 
কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ জানান চিথোলিয়ায় হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় ১টি দ্রুত বিচার আইনে মামলাসহ পল্টাপাল্টি ২টি মামলা হয়েছে। দুটি মামলারই তদন্ত করছেন, পরিদর্শক তদন্ত মোঃ সাইফুল। তিনি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবেন।