২৫ কোটি টিকা কেনার ব্যবস্থা করে

২৫ কোটি টিকা কেনার ব্যবস্থা করে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রায় ২৫ কোটি করোনাভাইরাসের টিকা কেনার মতো ব্যবস্থা করে রেখে দিয়েছি। এদিকে প্রায় ৯ কোটির কাছাকাছি টিকা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সাড়ে চার কোটি দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় ডোজের টিকা। বাকিগুলো প্রথম ডোজ। বুধবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে গণভবনে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ও ফ্রান্স সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আসবে। কাজেই আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। এখন তো আমরা প্রতিদিনই টিকা দিচ্ছি। আপনারা দেখেছেন বস্তিতেও দেওয়া শুরু করেছি। শিক্ষার্থীদেরও দিচ্ছি। কেউ বাদ যাবে না। এটা সবচেয়ে বড় কথা।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, কতোগুলো টিকা দিলাম, সব কিন্তু বিনা পয়সায় দিচ্ছি। একটা টিকার কিন্তু অনেক দাম। একটি টেস্ট করতে গেলে ১২-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর একটা টিকা কতো টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে, তাও আমরা বিনা পয়সায় দিচ্ছি। মাথায় রাখবেন। দেশে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেল-বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে সরকারকে প্রতি বছর ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, সরকার আর কতো টাকা ভর্তুকি দেবে? বাজেটের সব টাকা যদি ভর্তুকিতে দিয়ে দেই তাহলে সব উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রতীক দিচ্ছি বলে সংঘাত হচ্ছে তা নয়। মেম্বারদেরও নির্বাচন হয়। সেখানে কোনো প্রতীক থাকে না।

এসময় বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচন করছে না তাই তাদের দলের নাম আসছে না। সেদিক থেকে তাদের চালাকিটা ভালোই। ভালো একটা চালাকি তারা করে দিয়েছে। ইলেকশনও করছে, আবার মারামারিও করছে। আবার উসকিয়েও দিচ্ছে। আমাদের বিদ্রোহীদেরও হয়তো সমর্থন দিয়ে উসকে দিচ্ছে। নির্বাচনে সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনে সহিংসতা, কোন নির্বাচনে কবে না হয়েছে... সেটা হলো বাস্তব। তবে এটা ঠিক যে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে, এর আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কিন্তু সেটা আমরা চাই না। আমরা কোনো রকম প্রাণহানি হোক চাই না। তাই যেখানে ঘটনাগুলো হচ্ছে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, হচ্ছে। যারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।