মদনে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি দূর্ঘটনায় প্রাণহানির আশষ্কা

মদনে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি দূর্ঘটনায় প্রাণহানির আশষ্কা

 মদন প্রতিনিধি : নেত্রকোনার মদনে লাইসেন্স বিহীন যত্রতত্র অবাদে চলছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। মাননির্ণয় ছাড়াই এসব সিলিন্ডার গ্রামীণ জনপদের মানুষ ব্যবহার করছে। কোনো প্রকার অনুমোদন না থাকলেও পৌরসদরসহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের  হাটবাজার ও রাস্তার পাশের দোকানে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। প্রচন্ড রোদ ও রাস্তার পাশে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশষ্কা করছেন এলাকাবাসী। 
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সিলিন্ডারের মাধ্যমে আবাসিক খাতে গ্যাস ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক অধিদফতরের কয়েকটি নীতি মালা রয়েছে। মহাবিস্ফোরক অধিদপ্তর কর্তৃক এসব নীতি মালা বাস্তবায়নের জন্য মনিটরিং সেলও আছে। দেশের বেশ কয়েকটি গ্রুপ অব কোম্পানি আবাসিক খাতে ব্যবহারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার তৈরি এবং বাজারজাত করছে। আর এ নীতিমালা ভঙ্গ করে এইসব সিলিন্ডার এখন যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তর গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় ও বিপণন লাইসেন্স প্রধান করলেও সাব ডিলারের নামে এসব প্রতিষ্ঠান নিত্যপন্যের মতো যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক উপজেলায় এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিয় প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করার কথা থাকলেও অসাধু গুটি কয়েক কর্মকর্তার অনৈতিকতার কারণে এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়ে উল্টো মদদ প্রদান করছে। বিধি মোতাবেক ১০টির বেশি সিলিন্ডার মজুদ রেখে বিক্রির ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করার ক্ষেত্রে যতেষ্ট পরিমানে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং আগুন নিয়ন্ত্রক সরঞ্জাম মজুদ রাখার নিয়ম রয়েছে। সিলিন্ডার গ্যাস স্থাপনা প্রাঙ্গনে দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্ত বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছাকাছি আলো বা তাপের উৎস থাকা যাবে  না  । এ সব আইনের তোয়াক্কা না করে চা দোকান থেকে ফার্ণিচার ও মুদি দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল। বর্তমান সময়ে  মদন উপজেলায় সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু এ সিলিন্ডার গ্যাস পৌরসদরসহ উপজেলার সর্বত্র যত্রতত্র পাওয়া যাচ্ছে অরক্ষিত অবস্থায়। ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে পরিবহন ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমতি বিহীন । মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নীতি মালা তোয়াক্কা না করে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানের সামনে এমনকি ফুটপাথে সিলিন্ডার ফেলে রেখে এ ব্যবসা নির্বিগ্নে পরিচালনা করছেন ব্যবসায়ীরা। মুদির দোকান হার্ডওয়ারের দোকান, সারের ডিলার এবং চা দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে এ সিলিন্ডার গ্যাস। অরক্ষিত অবস্থায় যত্রতত্র সিলিন্ডার ফেলে রেখে বিক্রির ফলে যে কোন মুহূর্তে  ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা । এসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার কথা থাকলেও তা নেই অধিকাংশ দোকানে। ব্যাপক চাহিদা থাকার কারনে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের মনগড়া ভাবে যেখানে-সেখানে সিলিন্ডারের বোতল ফেলে রেখে ব্যবসা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই জ্বালানির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই এসব দোকানে। বেশির ভাগ দোকানি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। 
এলাকার সচেতন মহলের পক্ষে দেওয়ান মসরু ইয়ার চৌধুরী, আব্দুল জব্বার, মোঃ লাল বাবু, উত্তমসহ কয়েকজন জানান, পৌরসদরসহ  উপজেলার সর্বত্র ব্যঙের ছাতার মতো যত্রতত্র অবৈধ ভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান হচ্ছে তাতে যেকোন মুহূর্তে ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশষ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। মদন ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির জানান, ইদানিং মানুষ এলপি গ্যাসের ব্যবহারের উপর নির্ভশীল হয়ে পড়ছে। আমরা প্রত্যেক দোকানিকে নিয়ম নীতি মেনে ফায়ার লাইসেন্স করে দোকানা পরিচালনা করা জন্য তাগিদসহ নিয়মিত মনিটরিং করছি। এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন,