কেন্দুয়ায় ধানক্ষেতে পাওয়া শিশুর মা-বাবাকে গ্রেপ্তার

কেন্দুয়ায় ধানক্ষেতে পাওয়া শিশুর মা-বাবাকে গ্রেপ্তার

কেন্দুয়া প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরশহরের আদমপুর পণ্ডিত এন্ড খান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ধানক্ষেতে পাওয়া নবজাতক শিশুর পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ঘটনার ৯ দিন পর  পুলিশ নবজাতকের মা-বাবাকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। থানার এসআই শফিউল আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের পর আটক শিশুর মা-বাবাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার আসামীরা হলো কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউপির গোগ গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে ও শিশুটির বাবা আল মোমেন (২৪) ও তার স্ত্রী জান্নাত আক্তার শিলা (১৯),শিশুটির দাদী শারমিন আক্তার (৫০) ও নানী শিল্পী আক্তার (৪০)। সুত্রে জানায়, প্রায় ৪ মাস পূর্বে গোগ গ্রামের মোমেনের সাথে একই ইউপির জালালপুর গ্রামের খোকন মিয়া মেয়ে শিলার বিয়ে হয়। গত ৭ নভেম্বর দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন শিলা। কিছুক্ষণ পরে লেবার ওয়ার্ড থেকে শিশু বাচ্চাকে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে ওইদিন বিকালে হাসপাতাল সংলগ্ন আদমপুর পণ্ডিত এন্ড খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ধানক্ষেতে নবজাতক শিশুকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে শিশুটিকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এদিকে উপজেলা প্রশাসনে তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা ও লালনপালনের পাশাপাশি অভিভাবক খোঁজে বের করার জন্য মাইকিং ও সংবাদপত্র বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালায়। এদিকে হাসপাতালের রেজিস্টার সুত্রে পুলিশ খোঁজ-খবর করে শিশুর বাবা-মায়ের সন্ধান পেয়ে আটক করে। অপরদিকে শিশুটি পাওয়ার পরপরই বেশ কয়েকজন দত্তক নিতে আগ্রহী থাকলে বাবা-মায়ের পরিচয় মেলায় এখন আর কেউ নিতে আগ্রহী হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান রনি। কেন্দুয়া থানা ওসি কাজী শাহ নেওয়াজ জানান, এঘটনায় ২০১৩ সালের ৭০ ধারায় শিশু নির্যাতন আইনে ওই শিশুটির মা-বাবা ও দাদী-নানী আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। শিশুটির মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। দাদী-নানীকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।