মদন হানাদার মুক্ত দিবস আজ

মদন হানাদার মুক্ত দিবস আজ

জাকির আহমেদ, মদন প্রতিনিধি : গতকাল ৬ নভেম্বর। নেত্রকোনার মদন উপজেলা হানাদারমুক্ত দিবস। ৬-৭ কোম্পানির বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিকে পরাস্থ করে মদন এলাকাকে মুক্ত করেন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের রায় কার্যকর ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে বদ্ধভূমিগুলোকে চিহ্নিত করে স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। ১৯৭১ সালের ৩০ অক্টোবর রাত থেকে ৬ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ হয়। টানা ১৭২ ঘণ্টা যুদ্ধে মগড়া নদীর তীরে ১৭ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হলে পাক বাহিনী পরাস্থ হয়। সেখানে শহীদ হন আবদুল কদ্দুছ নামের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ আহম্মদ কুরাইশী, হিরন চৌধুরী ও গাজী আবদুস সোবহান। এর সাথে মিরাশের মা নামের এক কিশোরী যোদ্ধাও আহত হয়। বদ্ধভূমি মগড়া নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখেতে কোন ফলক তৈরী করা হয়নি। তবে মগড়া নদীতে নির্মিত সেতুটির নামকরণ হয়েছে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কদ্দুছ এর নামে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে সেতুটির নামকরণ হলেও কোন ফলক না থাকায় মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি বর্তমান প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাচ্ছে। এদিকে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের কাইটাইল গ্রামে মুক্তিযোদ্ধের একটি স্পট নির্ধারণ ছিল। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে সেখানে শহীদ মফিজ উদ্দিন নামের একজন বীর মুকিযোদ্ধা পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হন।  সেই স্থানে মুক্তিযোদ্ধ স্মৃতিসৌধ গত বছর উদ্ধোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা দিয়ে মদনে ফতেপুর এলাকায় পাকবাহিনী আক্রমন করলে সেখানে সিদ্দিক মিয়াসহ দুইজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শহীদদের তালিকায় তাদের নাম থাকলেও স্মৃতি ধরে রাখতে উক্ত স্থানে কোন স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়নি। ১৯৭১ সালের মদন উপজেলার যে স্থানগুলোতে হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ করেছেন সেই স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে স্মৃতিফলক নির্মাণ করে তা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি এর স্মৃতি রক্ষার দাবি জানান স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষার্থীরা। মদন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কদ্দুছ বলেন, মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে চোখে পড়ার মতো কোন স্মৃতি ফলক মদন উপজেলায় নির্মাণ হয়নি। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখতে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধের স্পটে স্মৃতি ফলক তৈরীর দাবি করছি। মদন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আলহাজ¦ বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, ১৯৭১ সালের ৬ নভেম্বর মদন হানাদার মুক্ত হয়। আমি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের দায়িত্ব পেয়ে ২০১৪ সালেই প্রথম ৬ নভেম্বর মদন হানাদার মুক্ত দিবসটি পালন শুরু করি। মুক্তিযোদ্ধের স্পট হিসেবে চিহ্নিত অনেক স্থানেই স্মৃতি ফলক নির্মাণ হয়নি। শহীদদের স্মরণে মগড়া নদীর দক্ষিণ পাশে একটি স্মৃতি ফলক নির্মাণের পক্রিয়া চলমান রয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও ইউএনও বুলবুল আহমেদ বলেন, ৬ নভেম্বর মদন উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষে মদন উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যৌথ উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্থবক অর্পণ, বিজয় র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।