নীতিমালার যাঁতাকলে এক বিভাগধারী স্নাতক (পাস) কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী 

নীতিমালার যাঁতাকলে এক বিভাগধারী স্নাতক (পাস) কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী 

নেত্রকোণা প্রতিনিধি  ঃ নেত্রকোণা সংবাদদাতা ঃ  নেত্রকোণাসহ সারাদেশে ডিগ্রি পাস কোর্সের এমপিওভুক্তির আবেদন নিয়ে বিপাকে পড়েছে ডিগ্রি স্তরের কলেজের শিক্ষকরা। এমপিওভুক্তি আশায় দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে মানবেতর সাথে জীবনযাপন করছেন এই সমস্ত কলেজে শিক্ষক-কর্মচারীগণ। আর এই সমস্ত শিক্ষকরা অনলাইনে এমপিও'র আবেদন করতে পারছে না। এই নীতিমালা জরুরি ভিত্তিতে শিথিল করে এমপিওভুক্তি আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকগণ। তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে নন-এমপিও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও ভুক্তি জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু হয় গত ১০ অক্টোবর থেকে যা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। সম্প্রতি প্রকাশিত এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী স্নাতক (পাস)-এ এমপিও ভুক্তির জন্য দুটি বিভাগ আবশ্যক করা হয়েছে। পূর্বে এরকম নিয়ম না থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার স্নাতক (পাস) কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীগণ। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।  এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির জন্যও বেশ কিছু কঠিন শর্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। স্নাতক (পাস) পর্যায়ে কোনো বিভাগে অধিভুক্তির জন্য এইচএসসি পর্যায়ে একই বিভাগে কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী ও তাদের সন্তোষজনক ফলাফল থাকতে হয়। নতুন করে বিভাগ খুলতে হলে বর্তমানে প্রতিটি ডিগ্রি কলেজকে তাদের শর্ত পূরণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর আবেদন করতে হবে যা বেশ কয়েক বছরের ব্যাপার। সেই হিসেবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উক্ত কলেজসমূহ এমপিও পাবে না। ফলে দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে বিনা বেতনে দেশের সেবা করে আসা শিক্ষক-কর্মচারীগণ আজ হতাশায় নিমজ্জিত। গত ২৮ শে মার্চ ২০২১ তারিখে প্রকাশিত এমপিও নীতিমালা পূর্বের নীতিমালা থেকে একটু সহজ করার কথা থাকলেও তা সহজ করা হয়নি বরং ডিগ্রি (পাস) এমপিও ভুক্তির ক্ষেত্রে জুড়ে দেওয়া হয় দুটি বিভাগ থাকার কঠিন শর্ত। নীতিমালা অনুযায়ী স্নাতক পাস বলতে ১৩-১৫ শ্রেণিকে এবং স্নাতক পাস কলেজ বলতে ১১-১৫ শ্রেণিকে বোঝায়। নীতিমালার ২৫ পৃষ্টায় পাদটীকায় বলা হয়েছে স্নাতক (পাস) কলেজে এম.পি.ও. ভুক্তির জন্য দুটি বিভাগ থাকতে হবে। নীতিমালা প্রকাশের পর পাদটীকায় দুটি বিভাগের কথা উল্লেখ থাকলে অনেকেই বিষয়টি স্পষ্টকরার জন্য বলেন। পরবর্তীতে এ সম্পর্কিত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে যেহেতু স্নাতক (পাস) কলেজে (১১-১৫) দুটি বিভাগ চাওয়া হয়েছে সে হিসেবে অনেকেই এইচএসসি সহ দুটি বিভাগ থাকলেই হবে বলে ধারণা করে থাকেন। ফলে এবিষয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু গত ১০ অক্টোবর থেকে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির লক্ষ্যে অনলাইন আবেদন চাওয়া হলে দুটি বিভাগের বিষয়টি সবার নজরে আসে। ফলে স্নাতক (পাস) পর্যায়ের যেসব প্রতিষ্ঠানে দুটি বিভাগ নেই সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীগণের মধ্যে চরম হতাশা দেখা যায়। অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শিক্ষকদের মতে, নীতিমালায় কঠিন শর্তের কারণে বিনা বেতনে দীর্ঘদিন চাকুরি করে আসা এসব শিক্ষক-কর্মচারীগণ পরিবার নিয়ে আজ অসহায়। প্রশ্ন উঠে, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে বিনা বেতনে দেশকে সেবা করে আসা এসব শিক্ষক-কর্মচারীগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বের ব্যাপারে। অতিমারি কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও বেতন-ভাতাদি বন্ধের কারণে বহু শিক্ষক পেশা বদল করে রাজমিস্ত্রির সহযোগী, ফল বিক্রেতা কিংবা রিক্সা চালাতেও দেখা যায়। এমনকি এমপিও না পেয়ে অভাবের তাড়নায় পাবনায় মোস্তফা নামের একজন স্কুল শিক্ষক আত্মহত্যাও করেন। দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর খোলে দেওয়া হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বার।  কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসলেও এমপিও ভুক্তিতে জটিল নিয়মের কারণে অনেকেই হতাশ। স্নাতক (পাস) পর্যায়ে এক বিভাগধারী শিক্ষক-কর্মচারীসহ অন্যান্য অনেকর দাবি কোভিড-১৯ বিবেচনায় এমপিও ভুক্তিতে দুটি বিভাগের শর্তসহ অন্যান্য শর্তসমূহ শিথিল করে এমপিও ভুক্তি করা হোক। চন্দ্রনাথ ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক মারুফ হাসান মবিন বলেন, ২০১৫ সালে চাকরিতে যোগদান করি। দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে মানবেতর সাথে জীবনযাপন করছি। এমপিওভুক্তি আশায় বুক বেঁধে স্বপ্ন দেখছি। এখনো আশায় আছি। কবে আমাদের ভাগ্যে পরিবর্তন আসবে জানি না। মোহনগঞ্জ মহিলা কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক লিটন সরকার বলেন, নীতিমালায় জটিলতার কারনে এমপিও আবেদন অনলাইনে করা যাচ্ছে না। এ রকম নিয়ম হঠাৎ করে দেওয়াটা যুক্তিসংগত না। তাই অচিরেই নীতিমালা শিথিল করে এমপিও আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক মশিউর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ও অবকাঠামো সকল কিছুই মেনেই ডিগ্রি শাখা খোলা হয়। এক বিভাগীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি সমস্যার বিষয়টি সর্ম্পকে  জানতে চাইলে তিনি বলেন এমপিও দেখভাল করার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব কামরুল হাসানের কাছে একাধিক বার ফোনে  কল দিলে তা রিসিভ  করেননি।