ফরিদগঞ্জে শিশুকে খালি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করলো শিক্ষক

ফরিদগঞ্জে শিশুকে খালি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করলো শিক্ষক

মোঃ মুজাম্মেল হোসেন মল্লিক চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাঁশারা দারুল উলুম মাদ্রাসায় ৫ বছরের প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।২৬ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। একইদিন শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে, পরে অবস্থা বেগতিক দেখে চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে ওই শিশু চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।শিশুর মা জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় আমার মেয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাদ্রাসায় যায়। মাদ্রাসা ছুটির শেষে দুপুর দিকে সময় আমার মেয়ে বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর অন্য দিনের তুলনায় তাকে অন্যমনস্ক, মনমরা, মলিন দেখে মন খারাপের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং সে কান্না করতে থাকে। আমি মেয়েকে নিয়ে বাড়ির পুকুর ঘাটে নিয়ে গোসল করানোর জন্য তাহার পরিহিত জামা, কাপড় খুলিলে তাহার যৌনাঙ্গে ও পায়জামাতে রক্ত দেখিতে পাই। অতঃপর উক্ত রক্ত বা মন খারাপের বিষয়ে ভাল করে জিজ্ঞাসাবাদ করি।আমার মেয়ে আমাকে জানায়, মাদ্রাসা ছুটির পর সে যখন মাদ্রাসা ভ্যানের জন্য অপেক্ষা করে তখন উক্ত মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেন (২৭), পিতা- মোঃ আঃ জব্বার, মাতা- মোসাঃ মমতাজ বেগম, সাং- সাহাপুর, থানা- ফরিদগঞ্জ।আমার মেয়েকে বিভিন্ন ভাবে ফুসলিয়ে, চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে মাদ্রাসার একটি খালি কক্ষ্যে নিয়ে অসৎ কামলালসা, চরিতার্থের উদ্দেশ্যে আমার মেয়েকে কোলে বসিয়ে তাহার যৌনাঙ্গে হাত দিয়া বিভিন্ন ভাবে জোর পূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে।তিনি আরো বলেন, আমি উক্ত ঘটনাটি জানতে পেরে আমার মামা শ্বশুরের সাথে নিয়ে আমার মেয়েসহ ওই মাদ্রাসায় যাই। মাদ্রাসায় লম্পট শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। অন্যান্য শিক্ষকদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি লম্পট আমার মেয়েকে একটি শ্রেণি কক্ষে নিয়া যায়।পরবর্তীতে আমি মাদ্রাসা কমিটির সদস্যসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের পরার্মশক্রমে আমার মেয়েকে নিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।এ বিষয়ে কাঁশারা দারুল উলুম মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আরিফুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় আমরা হতবাক, দোষীকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সামগ্রিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছি। ধর্ষককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।