কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ২১ পদের নেই ১২ শিক্ষক, 

কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ২১ পদের নেই ১২ শিক্ষক, 

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা কেন্দুয়া প্রতিনিধি : নেত্রকোণার কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৮৯ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যালয়টিতে গত কয়েকবছর ধরে পূর্নাঙ্গ প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক কর্মকান্ড একেবারেই ভেঙ্গে পরেছে। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে চলছে নানা অনিয়ম। ২১ পদে ১২ জন শিক্ষক না থাকায় করোনার পর বিদ্যালয়টি খোলা হলে পাঠদান কার্যক্রমেও চরম বিঘœতার সৃষ্টি হচ্ছে। জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে যেসব পদ শূণ্য রয়েছে এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক, ১ জন গণিতের শিক্ষক, ২ জন বাংলা শিক্ষক, ১ জন ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক, ১ ইংরেজী শিক্ষক, ২ জন সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক, ১ জন জীববিজ্ঞানের শিক্ষক, ১ জন ভ‚গোলের শিক্ষক ও ১ জন কৃষি শিক্ষক সহ ১২ পদে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নেই। ছাত্র অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সহ শূন্যপদে সকল শিক্ষকের পদ পূরণের জন্য দাবী জানিয়ে আসলেও মূলত কোন ফল হচ্ছে না। এতে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিবছর ভালো ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়টি সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। 
    বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রুকন উদ্দিন খান, স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ছাত্র অভিভাবক ও সহকর্মী শিক্ষকদের সঙ্গে সেচ্চাচারীতা সহ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নানা অনিয়ম দূর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে চলছেন। করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয়টি দেড় বছর বন্ধ থাকলেও ছাত্র-ছাত্রীদের ৪ লক্ষাধিক টিফিনের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নানা অযুহাতে খরচ করেন। অপর দিকে ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত ১০ লক্ষাধিক টাকার কাজ কোন কমিটি গঠন ছাড়াই একা একা মনগড়াভাবে করেছেন। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকগণ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযোগ করে বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে কোন প্রকার কমিটি গঠন ছাড়া একাএকাই দায়সারা গোছের কাজ করেন। এছাড়া টিফিনের টাকা অন্য খাতে খরচ করার নিয়ম না থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ৪ লক্ষাধিক টাকা নানান অজুহাতে খরচ করে তছরুপ করেন। শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য পদাধিকার বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অঞ্চল ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাবী জানান।কমিটি গঠন করে সকল প্রকার কাজ করার দাবী জানালেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের সব দাবী উড়িয়ে দিয়ে গায়ের জোরেই চলছেন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুকন উদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অঞ্চল ময়মনসিংহের উপ-পরিচালকের নির্দেশে টিফিনের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে মাস্টার রোলে কর্মরত চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিয়েছেন। এছাড়া যেসব উন্নয়ন কাজ করেছেন সব কাজেই কমিটি গঠন করে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরও নিয়েছেন বলে দাবী করেন। তিনি নিজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকলেও প্রধান শিক্ষক সহ শূন্য পদে সকল শিক্ষকের পদ পূরনের দাবী জানান। ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক আবু নূর মোঃ আনিসুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টিফিনের টাকা খরচ করার অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই আসেনা। এটি তার এখতিয়ার বহির্ভূত। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক সহ শূন্য পদে সকল শিক্ষকের পদ পূরণে বিধি মোতাবেক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।