কেন্দুয়ায় উপজেলা সদরে একসময়ের থানা ডিস্পেনসারিটি এখন নিজের রুগ্ন যেন কেউ নেই  

     কেন্দুয়ায় উপজেলা সদরে একসময়ের থানা ডিস্পেনসারিটি এখন নিজের রুগ্ন যেন কেউ নেই  

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া প্রতিনিধি ঃহঠাৎ দেখলে মনে হবে এটি একটি ভাগার, ময়লা আবর্জনার স্তুপ, মনুষ ও পশু প্রানীর মলমূত্র ও পানি জমে পরিবেশ দিন দিনই বিষাক্ত হয়ে ওঠছে। জমে থাকা পানিতে সাধারন মশাতো আছেই ডেঙ্গু মশাও এখানে বংশ বিস্তার ঘটাতে পারে বলে আশংকা করছেন অভিজ্ঞজনেরা। 
    কেন্দুয়া উপজেলা সদরের সাজিউড়া মোড়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত থানা ডিস্পেনসারি নামে পরিচিত একটি আধাপাকা টিনসেড ঘর। ৮০ ও ৯০ দশকে এ ডিস্পেনসারিটি জমজমাট। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তাগণ বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিনই এখানে বসে সাধারন রোগী দেখতে বিনামূল্যে ঔষধপত্র দিতেন। তাছাড়া সময়ে সময়ে শিশু ও গর্ভবতি মায়ের টিকাদানের ক্যাম্পও স্থাপন করা হত। কিন্তু বর্তমানে এই টিনসেড ঘরটির সামনের জায়গাটি ভাগারে পরিনত হয়েছে। ঘরটির অর্ধেক চাল ঢেকে গেছে ঝুপঝাড়ে সামনের জায়গাটিতে পানি জমে থাকে সারাক্ষন। ময়লা আবর্জনার স্তুপ থেকে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে সারাক্ষন। সংরক্ষন ও সংস্কারের অভাবে এখন এই ঘরটি বা জায়গাটি জনগনের কোন কল্যাণে আসছে না। উপকারের চেয়ে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। কিন্তু পরিবেশ নষ্ট করলেও এটি যেন দেখার কেউ নেই। 
    নেত্রকোনা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রায় তিন বছর আগে এই ঘরটির সামনে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখা হয়েছে। এতে লিখা রয়েছে, দিগদাইর মৌজার এই ৪২ শতাংশ জমির মালিক জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদ এখানে একটি মার্কেট করার পরিকল্পনা করেছিল। পরবর্তীতে পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিকল্পনাটি আর আলোর মুখ দেখেনি। সংরক্ষন ও সংস্কারও করা হয়নি ঘর এবং জায়গাটির। জেলা পরিষদের সংরক্ষিত (কেন্দুয়া-আটপাড়া) নির্বাচিত সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালমা আক্তার বলেন, এটি জেলা পরিষদের জায়গা, একটি মার্কেট করার জন্য পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে যেভাবে পরিকল্পনাটি নেয়া হয়েছিল সেভাবে আর বাস্তবায়ন হয়নি। পৌরশহরের বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, রাস্তার পাশে থানা ডিস্পেনসারির সামনে যেভাবে ময়লা আবর্জনা ও পানি জমে থাকে এতে প্রতিদিনই রোগ জীবানুর জন্ম নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এর প্রতিকার না করলে এক সময় ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে।