হুইল চেয়ার


আকিব শিকদার

‘হুইল চেয়ারটা না কিনলে কী হতো, মা আর
ক’দিনই বা বাঁচবে...!’
মুখ বাঁকিয়ে বকবকাচ্ছে মিলি। স্বামীটার নেই
একটুও বিবেচনাবোধ, টাকাগুলো জলে ভাসালো ।
স্ত্রীর চিৎকার শুনে শুনে যন্ত্রণাদগ্ধ মিলন
ধরালো সিগারেট। ধুয়ায় ঘরটা ধুয়াটে। ইচ্ছে হচ্ছিল
সারা বাড়ি আগুনে জ¦ালিয়ে দিতে।
পাশের ঘরেই বৃদ্ধা, শুয়ে শুয়ে শুনছেন। চোখের কোণের
জল গড়িয়ে পড়লো বালিশে।
বউ-ছেলেতে ঝগড়া, কারণ
হুইল চেয়ারটা। মনে মনে বললেনÑ
‘আজরাইল কেন আসে না...! পরগাছা হয়ে
বাঁচার চেয়ে মৃত্যু ভালো।’

চার বছরের শিশু চেঁচামেচি শুনে খেলনাগুলো গুটিয়ে
ভয়ে কাঁপে। মায়ের দিকে তাকায়, তাকায় বাবার মুখে ।
কাজের মেয়েটা বলেÑ ‘মানুষকে তার কর্মফল
পৃথিবীতেই পেতে হয় গো খালা, আপনার পুত্রবধু
করবে এমন আচরণ যেমনটা করছেন শাশুড়ির সাথে।’
মিলি বিদ্রুপের সুরে শুনায়Ñ ‘পুটলা-পুটলি বেঁধে
দেবো বাপের বাড়ি পাঠিয়ে। বুঝবে তখন।’
বৃদ্ধাকে বেশিদিন সইতে হয়নি, মৃত্যু এসে নিয়ে গেছে।
হুইল চেয়ারটা কিছুকাল বারান্দার কোণায়
যতেœ ছিল তোলা। দেখলাম, তাদের একমাত্র ছেলেকে
কাজের মেয়েটা সেই চেয়ারে চড়িয়ে
বারান্দা ও ঘরে আনা-নেওয়া করে।
কী এক অজ্ঞাত রোগে ছেলেটা এখন পঙ্গু। ডাক্তার জানিয়েছেন
কোনদিন পারবে না নিজ পায়ে দাঁড়াতে।
ওদের বারান্দার গ্রিলে চোখ রেখে বলিÑ ‘চাকাওয়ালা চেয়ার
কেনার টাকাগুলো বৃথা গেলেই ভালো হতো।’
 আকিব শিকদার। জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানাধীন তারাপাশা গ্রামে, ০২ ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে। প্রফেসর আলহাজ মোঃ ইয়াকুব আলী শিকদার ও মোছাঃ নূরুন্নাহার বেগম এর জ্যেষ্ঠ সন্তান। স্নাতক পড়েছেন শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটি থেকে ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর। খন্ডকালীন শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু; বর্তমানে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন এ্যাপারেল ইন্সটিটিউট অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজিতে।
কবির বিধ্বস্ত কঙ্কাল (২০১৪), দেশদ্রোহীর অগ্নিদগ্ধ মুখ (২০১৫), কৃষ্ণপক্ষে যে দেয় উষ্ণ চুম্বন (২০১৬), জ্বালাই মশাল মানবমনে (২০১৮) তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। দোলনা দোলার কাব্য (২০২১) তার শিশুতোষ কবিতার বই।  
সাহিত্য চর্চায় উৎসাহ স্বরুপ পেয়েছেন “হো.সা.স. উদ্দীপনা সাহিত্য পদক”, “সমধারা সাহিত্য সম্মাননা”,  “মেঠোপথ উদ্দীপনা পদক”, “পাপড়ি-করামত আলী সেরা লেখক সম্মাননা”। লেখালেখির পাশাপাশি সঙ্গীত ও চিত্রাংকন তার নেশা।