নেত্রকোনার ৫টি আসনে বিএনপির ২ প্রার্থীসহ জামানত হারিয়েছেন ১৮ প্রার্থী

নেত্রকোনার ৫টি আসনে বিএনপির ২ প্রার্থীসহ জামানত হারিয়েছেন ১৮ প্রার্থী

এ কে এম আব্দুল্লাহ,

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনে ২৬জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
এর মধ্যে দুইজন বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও একজন সাবেক এমপি রয়েছেন। নেত্রকোনা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বর
নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীসহ অন্যান্য দলের সর্বমোট ২৬জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মানু মজুমদার নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১ শত ৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে
নির্বাচিত হন। তার নিকটম প্রতিদ্বন্ধী কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬শত ৫২ ভোট। প্রদত্ত ভোেেটর ৮ ভাগের ১ ভাগের কম ভোট পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ ছাড়া ওই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধীতা করে ৬ শত ২২ ভোট পান। একই আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোঃ আলকাছ উদ্দিন মীর কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ১ মত ৯৮ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন
বাংলাদেশের মোঃ মামুনুর রশিদ হাত পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ২ শত ৬৮ ভোট। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৮৩ হাজার ১ শত ৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৩ শত ৭০ ভোট। এ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোশতাক আহমেদ কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২ শত ১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ খুরশেদ আলী হাত পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৫ শত ৯২ ভোট, জাকের পার্টির মোঃ বরকত উল্লাহ গোলাপ ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ৬ শত ২০ ভোট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সজীব সরকার রতন কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ৫ শত ১৫ ভোট।
তাদের জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৭০ হাজার ১ শত ৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ওই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ২ শত ২০ ভোট। এ ছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৯শত ৪০ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের মোঃ এহ্ধসঢ়;তেশাম সারওয়ার মিনার প্রতীকে পেয়েছেন ৫শত
৬৪ ভোট, জাতীয় পার্টির মোঃ জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৯ শত ৮৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ জাকির হোসেন হাত পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৬ শত ৮৮ ভোট। নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেবেকা মমিন নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৪ হাজার ৪ শত ৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবনী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ১ শত ৮১ ভোট। এ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জলি তালুকদার কাস্তে প্রতীকে ১ হাজার ১ শত ১০ ভোট পেয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মোফাজ্জল হোসেন হাত পাখা প্রতীকে ৯ শত ২১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে আওয়ামী লীগের ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল(বীর প্রতিক) নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪ শত ৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৬ শত ৩৮ ভোট। এ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আবদুল ওয়াহহাব হামিদী খেজুর গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ১ শত ২ ভোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মোঃ এম আর মাসুদ হারিকের প্রতীকে ৩ শত ২৭ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ শামীম হোসেন হাত পাখা প্রতীকে ২ হাজার ৩ শত ৫৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। নেত্রকোনান রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, নির্বাচন শেষে ফলাফলের কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
সরকারি নিয়মানুয়ায়ী যারা প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগের চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।