কেন্দুয়ায় স্ত্রী দুই পা ভাঙ্গার পর স্বামীকেও অচল করে দেওয়ার হুমকী

কেন্দুয়ায় স্ত্রী দুই পা ভাঙ্গার পর স্বামীকেও অচল করে দেওয়ার হুমকী

কেন্দুয়া প্রতিনিধি: এলাকার মেম্বারসহ সবাই একপক্ষ হয়েছে। আমার দুই পা ভেঙ্গে দিয়েছে। হাতে-কোমরে আঘাতে পর আঘাত করে আমাকে অচল করে দিয়েও তারা ক্ষান্ত হচ্ছে না। এখন আমার স্বামীর হাত-পা ভেঙ্গে ভিক্ষা থালা হাতে ধরিয়ে দেয়াসহ একের পর এক  প্রতিপক্ষের প্রাণনাশে হুমকীর পর আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে মঙ্গলবার কেন্দুয়া থানায় এলে বৃদ্ধ পারভিন আক্তারের সাথে দেখা হয়। কি হয়েছে জিজ্ঞাস করতেই তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠে এসব কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন। 

যার কথা বলছি তিনি হলেন,কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউপির পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেলিমের স্ত্রী পারভিন আক্তার। তিনি মঙ্গলবার বিকালে স্বামী ও দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে অটোরিকসা করে থানায় আসেন পারভিন। এসময় তিনি আরো বলেন,আমাদের কেউ নেই,আমাদের জন্য বিচার নাই,আমারে অচল করে দিয়েছে এখন আমার স্বামী-সন্তানদের খুন করতে রামদা ও বল্লম নিয়ে দৌঁড়ায়। আমরা তাদের ভয়ে সব সময় আতংক অবস্থায় আছি। তাদের ভয়ে ৩ ছেলে বাড়িছাড়া রয়েছে। পারভিন আরো বলেন,গত ৩ জুন আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে স্বামী ও ছেলেকে বেধরক মারপিট করে প্রতিপক্ষ মজিবুর রহমান গংরা। পরে তাদেরকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন আমাকে একা পেয়ে মেরে দুই ভেঙ্গে দিয়েছে। এছাড়াও হাতে ও কোমরে সহ শরীরিরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে আমাকে পুঙ্গু বানিয়েছে। ২০/২২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আইছি। 

এখনো তারা নানাভাবে হুমকী-দমকী দিচ্ছে। এঘটনায় পারভিনের ছেলে আলম মিয়া বাদী হয়ে গত ৯ জুন ১১ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন,পাথারিয়া গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে মজিবুর রহমান (৬০) ,তার ছেলে শামীম মিয়া (৩০),জসিম মিয়া(২২),আব্দুল মালেক (২০),আব্দুল হাইয়ের ছেলে রুবেল মিয়া (২৭),রফিকুল ইসলাম (৩২), সোহেল মিয়া (১৯),মৃত মেহের আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৬০),শামছু মিয়ার ছেলে পলাশ মিয়া (৩০),রফিকুল ইসলামের স্ত্রী বেগম আক্তার (২৮) শামছু মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার (৩৫) ও আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী মুর্তুজা বেগম (৫২)। মামলা দায়ের পর ৬ আসামী জামিনে ছাড়া পেয়েছে। অন্য আসামী এলাকায়ই থাকে পুলিশ দেখলে গাঢাকা দেয় জানিয়ে তিনি আরো বলেন,আমাদের মাপপিট করে গরু,ধান-চাউল,নগদ টাকাসহ অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
 
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহাবুব রহমান চকদার জানান,মামলার ৬ আসামী আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দুয়া থানা ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন,এই বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখব এমন হয়ে থাকলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।