হামলার ভয়ে হত্যা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীরা এলাকা ছাড়া

হামলার ভয়ে হত্যা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীরা এলাকা ছাড়া

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকার পরও প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে বাড়ি ফিরতে পারছেন না হত্যা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীরা। বাড়িতে উঠতে গিয়ে আসামি পক্ষের হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকিতে আবারও এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। 
 
নেত্রকোনার আটপাড়ার তেলিগাতী ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে গত বুধবার বাদী ও তার লোকজনের ওপর হামলা চালায় আসামি পক্ষের লোকজন। এ ব্যাপারে প্রতিকার, ন্যায় বিচার ও নিজ নিজ বসত বাড়ীতে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে সুখে শান্তিতে বসবাসের জন্য নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের বরাবরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন অসহায় পরিবারের চাঁন মিয়া ফকিরের ছেলে নুরুল হক।
 
অভিযোগে জানা গেছে, জেলার আটপাড়ার পালগাঁও গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হকের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে এ টি এম শহিদুজ্জামান হেলিমের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ১ মার্চ প্রতিপক্ষের হামলায় মোজাম্মেল হকের মা ৭৭ বছরের বৃদ্ধা মুক্তারের নেছা নিহত হন। এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের করলে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই মামলার বাদী ও স্বাক্ষীরা ভয়ে বাড়িঘর ফেলে অন্যত্র আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। হত্যা মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাড়ি ফিরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও স্বাক্ষীদের নানা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শণ করছে। তারা হত্যা মামলা তুলে নিতে বাধ্য করার জন্য বাদী ও স্বাক্ষীদের জড়িয়ে থানায় ও আদালতে সাতটি মামলা দায়ের করে। 
  
প্রায় সাড়ে তিন মাস বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়ানো পর গত ২০ জুন হত্যা মামলার বাদী ও স্বাক্ষীরা জীবনের নিরাপত্তা ও নিজ নিজ বাড়ি ঘরে ফেরার জন্য নেত্রকোনা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত আবেদন জানান। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার কেন্দুয়া সার্কেল ও আটপাড়া থানার ওসিকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পুলিশী সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন। বুধবার দুপুরে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীরা নিজ নিজ বাড়িঘরে উঠতে যায়। এ সময় আসামি পক্ষের লোকজন বাদী ও স্বাক্ষীদের বাড়িতে ফের হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা মোজাম্মেল হকের ভাতিজা নুরুল হক ও ছেলে রাব্বীকে মারধর করে। হামলাকারীরা নুরুল হকের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছেলে রাব্বীকে বাচাঁতে মা আসমা আক্তার এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও পিটিয়ে জখম করে। আহতদের আটপাড়া ও নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
 
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বাদী পক্ষের আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।