চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে পূর্বধলা হাসপাতালে ভাংচুর

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে পূর্বধলা হাসপাতালে ভাংচুর

মোস্তাক আহমেদ খান: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে স্বজনরা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমের কাচের ডেস্ক ভাংচুর করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক অভিযোগ অস্বীকার করে দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে বাধা দান ও দেখে নেয়ার হুমকির প্রতিবাদে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আজ ৪ জুন (শুক্রবার) সকাল আনুমানিক ৭.১৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে।

উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকুন গ্রামের আব্দুল মজিদ এর ছেলে শাহীদ মিয়া (৩৮) সকালে হার্টের ষ্ট্রোক করলে সাথে সাথে পূর্বধলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রোগীর ভাই সুমন মিয়া রোগীকে হাসপাতালে ঢুকানোর আগেই জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মালেককে ডাক্তার ডাকার কথা বলেন। ডাক্তার আসতে খানিকটা বিলম্ব হওয়ায় স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। ডাক্তার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগীকে মৃত ঘোষণা করে। মৃত ব্যাক্তির ভাই সুমন মিয়া অভিযোগ করেন, রোগী নিয়ে তারা হাসপাতালে আসলে ডাক্তার আসতে দেরি হয় এবং এতে স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক শুকলা মৌমিতা দাবি করেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই রোগীর মৃত্যু হয় আর ছুটির দিন থাকায় বাইরের ডায়াগনোস্টিক সেন্টার এর সহায়তা নিয়ে ইসিজি সম্পন্ন করা হয়। ইসিজি সহ অন্যান্য রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর রোগীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তিনি আরো বলেন, রোগীর স্বজনরা তাদের দায়িত্বপালনে বাধা প্রদান করে, দেখে নেয়ার হুমকি দেয় এবং ইমার্জেসি রুমের কাচের টেবিল ও অন্যান্য জিনিস ভাংচুর করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ শাহীন বলেন, কর্তব্যরত ডাক্তার ওয়াশরুমে থাকায় আসতে দেরী হলে ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর স্বজনরা ভাংচুর করে। এই বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।

পূর্বধলা থানার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।