কেন্দুয়ায় পুরুষের নামে বিধবা ভাতার কার্ড

কেন্দুয়ায় পুরুষের নামে বিধবা ভাতার কার্ড

মজিবুর রহমানঃ অবিশ্বাস হলেও সত্য যে, পুরুষের নামে বিধবাভাতা কার্ড হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নে  । 

ওই ইউনিয়নে পুরুষকে বিধবা বানিয়ে কান্ত হয়নি বয়স্ক ভাতা ভোগীকে করা হয়েছে প্রতিবন্ধী আর বয়স্ক ভাতা ভোগী মহিলাকে রূপান্তর করা হয়েছে বিধবা ভাতা ভোগী। 

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেয়া বয়স্ক-বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা এখন থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেয়ার লক্ষ্যে সরকার গভর্নমেন্ট টু পাবলিক (জিটুপি) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য ভাতাভোগীদের অনলাইন (এমআইএস) কার্যক্রম পরিচালনা করছে কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়।

ভাতাভোগীদের এমআইএস এর আওতায় আনায় ঘটছে বিপত্তি। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগসাজশে অবৈধ পন্থায় কম বয়সী নারী-পুরুষকে বয়স্কভাতার কার্ড পাইয়ে দেন। সরকার এমআইএস পদ্ধতি গ্রহণ করায় এসব চোরাকারবারির ঘটনা ধামাচাপা দিতে কৌশলে বয়স্ক ভাতা ভোগী পুরুষদের কোড নাম্বার পরিবর্তন করে প্রতিবন্ধী বানানো হয়েছে ও বয়স্ক ভাতা ভোগী মহিলাদের কোড নাম্বার পরিবর্তন করে বিধবা বানানো হয়েছে। আর এই কাজ করতে গিয়ে কান্দিউড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে বিপ্লবর্গ গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে বয়স্কা ভাতাভোগী মোহাম্মদ আলীকে বানানো হয়েছে বিধবা ভাতাভোগী। 

একই কায়দায় বয়স্কভাতা ভোগী তেতুলিয়া গ্রামের মিন্টু দেবনাথ, রাঘবপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার, আব্দুল আজিজ, মো. মোসলিম,পালরা গ্রামের সাত্তার,আঃ মন্নাফ ও বিঞ্চুপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ারকে কোড নাম্বার পরিবর্তন করে বানানো হয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগী। 

বয়স্কা ভাতাভোগী চৌমুরিয়া গ্রামের পরিমুন্নেছা, বিঞ্চুপুর গ্রামের সুলেমা ও জাহানারা আক্তারকে বানানো হয়েছে বিধবা ভাতাভোগী। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো ভাতাভোগীদের তালিকা যাচাই-বাছাই কালে এমন অসংগতি বিষয়টি ধরা পরে সমাজসেবা কার্যালয়ে। 

জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যান্য ইউনিয়নে এমন ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনা যাচ্ছে।
 
এবিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে কান্দিউড়া ইউনিয়নে দ্বায়িত্বে থাকা সমাজসেবা কার্যালয়ে কারিগরি প্রশিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, বয়স জালিয়াতি করে অনেকই বয়স্কভাতার কার্ড করেছিল। এখন ভাতাভোগীদের এমআইএস এর আওতায় আনায় বয়স জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েছে। অনেকের কার্ড বাতিল হচ্ছে। কান্দিউড়া ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের এমআইএস করা তালিকায় এমন অসংগতি পাওয়া গেছে। এখন সকল ভাতাভোগীদের যাচাই করতে হচ্ছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে কান্দিউড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো.শহীদুল্লাহ কায়সার ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা রোমান কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান রনি'র মুটোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি।