এক জন ডাক্তার দিয়েই চলছে মদন ৫০ শর্য্যা হাসপাতালের সেবা

এক জন ডাক্তার দিয়েই চলছে মদন ৫০ শর্য্যা হাসপাতালের সেবা

ফয়েজ আহম্মদ হৃদয় : মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা চলছে একজন ডাক্তার দিয়ে।  শনিবার হাসপাতালে সরজিমনে গেলে ডাক্তার নাদিয়া নাসরিন ছাড়া আর কোন ডাক্তার পাওয়া যায়নি। ফলে রোগীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডাক্তার না থাকায় অনেক রোগী ছুটছে প্রাইভেট ক্লিনিক/ডায়াগনষ্ট্রিক সেন্টারগুলোতে। এতে হতদরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় বাড়ছে। সরকার গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র লোকদের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে হাসপাতালের ভবনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদী বৃদ্ধি করলেও কর্মরত ডাক্তারগণ যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এর সুফলতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার সাধারণ জনগণ। কর্মরতরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

জানা যায়, এ উপজেলা প্রায় দুই লাখ লোকসহ খালিয়াজুরী ও আটপাড়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে লোকজন এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এক্সরে মেশিন অকেজো, ইসিজি  ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন দীর্ঘদিন ধরে প্যাকেট বন্দি । এখানে ডাক্তারগণ রোগীদেরকে শুধু ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন।  ৮ ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ ২৯ জন ডাক্তার কর্মরত থাকার কথা। তবে ইউনিয়নে কোন ডাক্তার না থাকায় পল্লী এলাকার লোকজন  এ ৫০ শয্যার হাসপতালের চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল । এখানে  স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ তিনজন ডাক্তার কর্মরত থাকলেও অফিসের কাজে ব্যস্থ থাকেন স্বাস্থ্য প্রশাসক,অন্য দুইজন একদিন পরপর পালাক্রমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। ফলে রোগীরা প্রকৃত সেবা না পেয়ে  প্রাইভেট ক্লিনিক/ডায়াগনষ্ট্রিক সেন্টারের ব্যয়বহুল  চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এ সময় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ফরিদ চৌধুরী,টোটন মিয়া,হৃদয়,আম্বিয়া আক্তার জানান, একজন ডাক্তার থাকায় দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেকেই বিরক্ত হয়ে চিকিৎসা না নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোতে চলে যাচ্ছে।এখান থেকে শুধু ব্যবস্থাপত্র দেন ডাক্তার। পরীক্ষা নিরিক্ষা প্রাইভেট ক্লিনিকে করতে হয়। ডাক্তারের শূন্যপদ পূরণসহ হাসপাতালে সকল পরীক্ষা নিরিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তারা উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাক্তার মোঃ ফখরুল হাসান চৌধুরী জানান,আমি অফিসের কাজে ময়মনসিংহে আছি। বিকালে কর্মস্থলে  ফিরব। এখানে  ২৯ জন ডাক্তার কর্মরত থাকার কথা থাকলেও আমি সহ তিনজন ডাক্তার কর্মরত আছি। তবে আমার হাসপাতালে দুইজন ডাক্তার আছেন। উনারা পালাক্রমে এক দিন পর পর দায়িত্ব পালন করছেন। শূন্যপদ পূরনের জন্য আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।