ধনু নদীতে পাকা সেতু নির্মাণ, খালিয়াজুরীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি

ধনু নদীতে পাকা সেতু নির্মাণ, খালিয়াজুরীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি

মোঃ আবুল হোসেন, খালিয়াজুরী প্রতিনিধি: এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, এটি নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী সদর উপজেলা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রসুলপুর ঘাটের ধনু নদীর ফেরির দৃশ্য। এধরনের দূর্ঘটনা নিত্যদিনের।

হাওড় দ্বীপ এই উপজেলার রাস্তাঘাট বছরের প্রায় ছয়মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে, আর বাকি ছয়মাস চলতে হয় সড়ক পথে। খালিয়াজুরী সদর থেকে নেত্রকোণা জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। খালিয়াজুরী থেকে মদনের উচিতপুর পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সাবমার্জিবল (ডুবন্ত) সড়ক আছে। শুষ্ক মৌসুমে এ সড়ক দিয়েই খালিয়াজুরীর রসুলপুর ফেরি ঘাট থেকে মদন উপজেলা পাড়ি দিয়ে নেত্রকোণা জেলা শহরে লোকজন সব ধরনের যানবাহনে যাতায়াত করে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এ নদীতে যেন একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়, কিন্তু উক্ত দাবি থাকা সত্বেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসছে না কোন কর্তৃপক্ষ। চলতে হচ্ছে খেয়া পাড়ি দিয়ে। আর খেয়া পাড়ি দিতে গিয়ে যাত্রীদের ব্যয় করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।

এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নেহেরেন্দ্রু দেব রায় তপু বলেন, খালিয়াজুরী থেকে জেলা সদরের প্রবেশের একমাত্র রাস্তাই এটি। আর এই রাস্তাটিই উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পারে জেলা সদরের। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতে এনে দিতে পারে উন্নয়নের গতি।

এ দিকে ইজারাদারের ব্যবস্থাপনায় চালু হওয়া খেয়া নৌকাটি অনেকাংশেই ছোট। সব সময় ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হয়। ফলে নিতে হয় জীবনের ঝুঁকি।

এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী কলেজের প্রভাষক মন্তুষ চন্দ্র বর্মন বলেন, একটি সেতুর অভাবে জেলা সদরের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে উপজেলাটি। খেয়া পাড়ি দিয়ে নদীর পাড়ে উঠতে গিয়ে শিকার হতে হয় নানা বিড়ম্বনা। মোটরসাইকেল নিয়ে পড়তে হয় বিপদে এবং সন্ধ্যার পর যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা এক প্রকার অচলেই হয়ে পড়ে। এ কারণেই খালিয়াজুরী সদরে কোনো যানবাহন পৌঁছে না।

সেতু নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয় বদলে যাবে এই এলাকার মানুষের আর্থিক অবস্থা। কারণ এই উপজেলাটি হাওড় মৎস ভান্ডার এবং একমাত্র অর্থকরী ফসল বোর ধান হিসেবে পরিচিত।

এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য গোলাম আবু ইছহাক বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থায়ী ও সহজ হলে দেশের ভিতরে ও বাহিরে মাছ রপ্তানিতে আসবে অভাবনীয় সাফল্য এবং কৃষকরা যেমন পাবে তাদের ধানের ন্যায্য মূল্য তেমনি ব্যাবসা বাণিজ্যে আসবে অর্থনৈতিক গতি। ফলে ঢাকা, ময়মনসিংহের সাথে পণ্য আানা - নেওয়া যেমন সহজ হবে তেমনি এর সাথে যারা সম্পৃক্ত তারাও প্রচুর লাভবান হবে। এতে জনগণের জীবন যাত্রার মানও বাড়বে । তাছাড়াও হাওড় এলাকায় মৌসুমি পর্যটকদের আনাগোনা দিন দিন বেড়েই চলবে।

হাওড় বেষ্টিত এই খালিয়াজুরীতে স্বপ্নের সেতুটি নির্মিত হলে শুষ্ক মৌসুমে সিলেটের সাথে ঢাকার শুধু যোগাযোগের বিকল্প পথই নয় ঢাকার সাথে সিলেটের দূরত্ব কমে যাবে অর্ধেক।

এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান সুমন চক্রবর্তী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সিলেট থেকে দিরাই শ্যামারচর হয়ে কোনো ফেরি ছাড়াই মোটরসাইকেল, অটো ও সিএনজি দিয়ে অনায়াসেই খালিয়াজুরীতে যেকোনো সময় আসা যাওয়া করা যায়। কিন্তু খালিয়াজুরী থেকে নেত্রকোণা জেলা সদরে সহজে আসা - যাওয়া করা যায় না শুধুমাত্র ধনু নদীতে একটি সেতুর অভাবে। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া সোচ্ছার হয়েছে। ধনু নদীতে সেতু হোক এটি শুধু খালিয়াজুরীবাসীর দাবি নয় বরং নেত্রকোণা জেলাবাসীর সার্বজনীন দাবি।

এই ব্যাপারে সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে ইতিমধ্যে তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটা প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। প্রস্তাবটি উপজেলা পরিষদে সিন্ধান্ত নিয়ে জেলা পরিষদ মহোদয়ের মাধ্যমে আমরা উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করব যাতে এই পাকা সেতুটি খুব তাড়াতাড়ি তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।