করোনা পরবর্তী কাল, কৃষিই ধরবে হাল সরকারের কৃষিতে আধুনিকীকরণের ফলে নেত্রকোণায় এবার কৃষিবিপ্লব ঘটেছে

করোনা পরবর্তী কাল, কৃষিই ধরবে হাল সরকারের কৃষিতে আধুনিকীকরণের ফলে নেত্রকোণায় এবার কৃষিবিপ্লব ঘটেছে
করোনা পরবর্তী কাল, কৃষিই ধরবে হাল সরকারের কৃষিতে আধুনিকীকরণের ফলে নেত্রকোণায় এবার কৃষিবিপ্লব ঘটেছে
করোনা পরবর্তী কাল, কৃষিই ধরবে হাল সরকারের কৃষিতে আধুনিকীকরণের ফলে নেত্রকোণায় এবার কৃষিবিপ্লব ঘটেছে

দিলওয়ার খান: অনকূল আবহাওয়া, সরকারের কৃষি প্রণোদনা, সার, বীজ ও যান্ত্রীকীকরণের ফলে নেত্রকোণায় এবছর বিগত ৫০ বছরের মধ্যে উৎপাদনে কৃষিবিপ্লব ঘটেছে। জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয় বোর্ডের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ সাফল্য অর্জন করতে সম্ভব হয়েছে। দ্রæততম সময়ে ও কম খরচে ধান কর্তনে কৃষকেরাও খুশি।

নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য ও প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যে ভরপুর এবং ধান অধ্যুষিত ও উৎপাদনে উদ্বৃত্ত নেত্রকোণা জেলা। এই অঞ্চলটি ত্রিমাত্রিক ভৌগলিক পরিমন্ডলে ব্যষ্টিত। উচু পাহাড়ি ভূমি, সমভূমি ও বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল বা জলাভূমি। এই অঞ্চলে ধানই সব চেয়ে বেশি উদৎপাদিত কৃষি ফসল। এবছর বিগত পাঁচ দশকের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ধান উৎপাদিত হয়েছে।

এ জেলায় উৎপাদিত ধানের উদ্বৃত্তাংশ আরোও কয়েক জেলার মানুষের খাদ্য যোগান দিয়ে থাকে। নেত্রকোণা জেলায় একটা বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে হাওর। হাওরের বুকে প্রকৃতির একটা সময় পানি থই থই করে, আরেকটা সময় ধান রাজত্ব করে। হাওরের মানুষের ধানই তাদের প্রাণ ও ধানই তাদের মান।
নেত্রকোণা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর বোরো মৌসুমে জেলায় মোট ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ অর্জিত হয়।  হাওর এলাকায় ৪০ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।  জেলায় মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৯৩ মেট্রিকটন চাল।

নির্বিঘেœ বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌসুমের শুরুতেই কার্যকরী পদক্ষেপ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কৃষক পর্যায়ে গুণগতমানের বীজ সরবরাহ, সার ও প্রয়োজনীয় বালাইনাশক সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগণ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশলের প্রসার, ফসলের রোগ বালাইসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ অব্যাহত রেখেছেন, ফলে এবছর ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। 

এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলনের নেপথ্যে যে বিষয়টি ছিল তা হলো- সরকার ডিএপি সারে ভর্তুকি দেয়ায় ও কৃষকরা ডিএপি সার ব্যবহার করা, ইউরিয়া সারের যথেচ্ছ ব্যবহার কমানোর ফলে রোগ পোকামাকড় ও বিভিন্ন বালাইয়ের আক্রমনও কমেছে তাই ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার আরোও একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল, বোরো মৌসুমে কৃষকদের মাঝে  হাইব্রিড ধানের বীজ প্রণোদনা প্রদান। নেত্রকোণা জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার কৃষকদের মাঝে ২ কেজি হারে হাইব্রিড ধানের বীজ সহায়তা প্রদান করা হয়। ফলে হাইব্রিড ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার হেক্টর বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টরে । 

আবার গত ০৪ এপ্রিল বিকেল বেলায় গরম ঝড়ো হাওয়ায় জেলায় প্রায় ৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি এবং ৯ এপ্রিল রাতে শিলাবৃষ্টিতে বেশ কিছু জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আবাদ বেড়েছে, হাইব্রিডের ফলনও অনেক বেশি তাছাড়া সকল জাতেরই বাম্পার ফলন হয়েছে বিধায় মোট উৎপাদনে কোন প্রভাব পড়বে না। 

নেত্রকোণা ভাটি অঞ্চলের কৃষকরা জানিয়েছেন, সরকারের যান্ত্রিক সযোগীতা, অনুকূল আবহাওয়া ও ধানের দাম ভালো পাওয়ায় আমরা মহা খুশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।
নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় দ্রæততম সময়ে ও কম খরচে ধান কর্তনে কৃষকেরা খুশি। দ্রæত ধানমাড়াই এর লক্ষে সরকারের কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। হাওর এবং সমতল ভূমিতে এবছর নেত্রকোণা জেলায় মোট ১৮৫টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন এর মাধ্যমে ধান কাটা হচ্ছে। হাওরের এলাকার ধান ইতোমধ্যে প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কৃষি বিভাগ গর্বিত অংশীদার।

নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান বলেন, বৃসি সম্প্রসারণের আধুনিক প্রযুক্তিগত তদারকি, পানি উন্নয় বোর্ডের দ্রতসময়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মাঠ প্রশাসনের তদারকির ফলে আশাতীত উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার ২৪ হাজার ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। মাঠ পর্যায়ে ধানের মূল্য ভালো থাকায় কৃষকেরাও খুশি। তারা বেশ আনন্দের সাথেই ধান কাটা ও বিক্রি করছে।