কেন্দুয়ায় তারাবী নামাজের মুসুল্লিদের ওপর হামলাঃ নামাজখানাসহ বসতবাড়ি ভাংচুর লুটপাট 

কেন্দুয়ায় তারাবী নামাজের মুসুল্লিদের ওপর হামলাঃ নামাজখানাসহ বসতবাড়ি ভাংচুর লুটপাট 

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া: নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় নামাজখানায় হামলা চালিয়ে তারাবি নামাজের মুসুল্লিদের মারপিটসহ নামাজখানা ও বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুর লুটপাট চালিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের বৈরাটী গ্রামে ঘটেছে। 

এসময় তারাবি নামাজের মুসুল্লি ও বৈরাটি গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে রাকিবুল ইসলাম সাদ্দামকে গুরুতর আহতাবস্থা রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

খবর পেয়ে বেশকিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থল তাৎক্ষণিক ছুটে যান কেন্দুয়ার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ ও তদন্ত ওসি হাবিবুল্লাহ খান। প্রায় কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

এলাকাবাসী ও থানা সুত্রে জানা যায়, পূর্বশ্রুতার যের ধরে গত বুধবার (২৮ এপ্রিল) বাড়ির সামনে ধান শুকানো খলায় বৈরাটি গ্রামের সাহেব আলী ছেলে আব্দুর রউফসহ তার মা-স্ত্রী,বড় ভাইয়ের স্রীকে বেধড়ক পিঠিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষ  হামিদুর রহমান গংরা। এঘটনায় আব্দুর রউফ বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করলে হামিদুর রহমানের ছেলে টিটু মিয়াকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। টিটু মিয়াকে গ্রেপ্তার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে হামিদুর রহমান গংরা প্রথমে নামাজখানায় হামলা চালিয়ে নামাজখানা ভাংচুরসহ মুসুল্লিদের বেধড়ক মারপিট করে। এসময় গুরুতর আহত তারাবি নামাজের মুসুল্লি ও বৈরাটি গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে রাকিবুল ইসলাম সাদ্দাম। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলাকারীরা নামাজখানায় হামলা করে কান্ত হয়নি পরে তারা বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটসহ নারী-শিশুদের মারপিট করেছে। শুক্রবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় রক্তাক্ত নামাজখানা। নামাজখানার টিনের বেড়া কুপিয়ে খেটে ফেলেছে। মুসুল্লি আবুল খায়ের (মতি) সরকারের ব্যক্তিগত কার্যালয়টি ব্যাপক ভাংচুরসহ নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও বেশকিছু দললি,আফাজুল ইসলামের বসতঘর ভাংচুর ও টাঙ্গ ভেঙে  নগত ৬০ হাজার টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে যায়। এসময় নারী-শিশুদের টানাহেঁচড়া ও মারপিট করেছে। নজরুল ইসলাম জানান, হামলাকারীরা দরজা ভেঙে তার বসতঘরে প্রবেশ করে নারী-শিশুদের মারপিটসহ তার একটি খেড়ের ঘাধা জ্বালিয়ে দিয়েছে। রহুল আমীনের বসতঘর ও উজ্জল মিয়ার অটোরিক্সা, আহত রাকিবুল ইসলাম সাদ্দামের বসতঘরে হামলা ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। 

আবুল খায়ের (মতি) সরকার বলেন,অন্যায়ভাবে আব্দুর রউফকে তারা মেরেছে। এই ঘটনায় আব্দুর রউফ থানায় মামলায় আমাদেরকে সাক্ষী মেনেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিটু মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর হামলাসহ নামাজখানা ও বাড়িঘর ভাংচুর করেছে তারা। হাজী আহমাদুল্লাহ ভূঞা ও হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে ৫০/৬০ লোক আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে জানান তিনি। আব্দুর রউফ জানায়,বাড়ির সামনে ধান শুকানোর জন্যে খলা বানিয়েছি। গত ২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার খলার ধানের ওপর দিয়ে ধান মাড়াইয়ের মেশিন নিতে চায় হামিদুর রহমান গংরা। এসময় ধান সরায়ে দিতে চাইলে আব্দুর রউফ ও হামিদুর রহমান গংদের সাথে কথার কাটাকাটি হয়। পরদিন  বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুর রউফের ওপর অতর্কিত হামলা হামিদুর রহমান গংরা। এসময় আব্দুর রউফসহ তার মা-স্ত্রী,বড় ভাইয়ের স্রীকে বেধড়ক পিঠিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষরা। নজরুল ইসলাম  জানায়,আমরা তারাবি নামাজ পড়ার জন্যে নামাজখানায় যাই। তারাবি নামাজের জামাত শুরু হওয়ার আগেই আমাদের ওপর হামলা চালায় তারা। আমরা তখন যে যেভাবে পারছি দৌড়ে পালিয়েছি। তারা অন্তত ৫০/৬০ লোক আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছ।

কেন্দুয়া থানা ওসি কাজী শাহনেওয়াজ জানান,খবর পেয়ে ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং কয়েক ঘন্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হই। পুলিশ আসামী ধরাকে কেন্দ্র করে প্রথমে নামাজের মুসুল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে মামলার সাক্ষীদের বাড়িঘর ভাংচুরসহ লুটপাট ও নারী-শিশুদের মারপিট করেছে হামলাকারীরা। এবিষয় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। তাছাড়া আসামীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।