ধোবাউড়ায় ইজিপিপি কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম

ধোবাউড়ায় ইজিপিপি কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ধোবাউড়ায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার ও অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। 
২০২০-২১ অর্থ বছরের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি (ইজিপিপি) এর আওতায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২কোটি ৪৩লাখ ১২হাজার টাকা বরাদ্দে মোট ৬০টি প্রকল্পে কাজের কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রকল্পে কোন কাজ হয় নি। ৪০ দিনের কর্মসূচিতে কাগজে কলমে কাজ হয়েছে ২৫ দিন। কিন্তু সরেজমিন অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অধিকাংশ প্রকল্পে কোন কাজ হয় নি। 

কিছু প্রকল্পে শ্রমিকের বদলে ভেকু দিয়ে রাস্তায় মাটি দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। যে সব প্রকল্পে নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হয়েছে সেগুলোর মধ্যে প্রকল্প প্রতি ৪০-৫০জন শ্রমিকের নাম উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ১০-১৫ জন দিয়ে কোন রকমে কাজ করানো  হয়েছে। ২৫দিনের মধ্যে কোথাও ১০-১২ দিনের বেশি কাজ হয় নি। 

৭টি ইউনিয়নের কোন শ্রমিককে দেওয়া হয় নি জব কার্ড। বিগত সময়ে জনতা ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হলেও চেয়ারম্যানদের সুবিধার্তে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় কয়েকটি ইউনিয়নের একাউন্ট স্থানান্তর করা হয়েছে। 
কয়েকটি প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ ভবনের পাশে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও কোন মাটি দেওয়া হয় নি। কাজ হয় নি হরচন্দ্রপুর ব্রিজ  থেকে গুনাপাড়া পর্যন্ত রাসÍায়। এখানেও কর্মসূচির টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে সদর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার মনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। সদর ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপজেলার অনেকগুলো প্রকল্পেই কাজ হয় নি। এর কারন মাত্র দেড়শো টাকা দৈনিক হাজিরায় শ্রমিক পাওয়া না। এটা নিয়ে নিউজ করলেও কিছু হবে না।’ পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের পাকা রাস্তা থেকে কামারখালি ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা ও আঠাম গ্রামে রাস্তার দুপাশে মাটি ভরাট কাজে ৮ লাখ টাকা বরাদ্দে ১০০ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও ভেকু দিয়ে সামান্য মাটি কাটানো হয়েছে।  সেখানে  একদিনও কোন শ্রমিককে কাজে লাগানো হয় নি। বাঘবেড় ইউনিয়নের ছোটবন ও কড়িয়াবাসা রাস্তা পুনঃনির্মান প্রকল্পে কোন কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। গামারীতলা ইউনিয়নের কৃষ্ঞপুর আমজতের বাড়ি থেকে হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় কিছু শ্রমিক দিয়ে সামান্য মাটি কাটা হয়েছে। গোয়াতলা ইউনিয়নের ভাদুয়াকুড়ি থেকে কাঁঠালকুশি পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রকল্পে শ্রমিকের বদলে ভেকু দিয়ে মাটি কাটানো হয়েছে। প্রকল্পটিতে ১২২জন শ্রমিক দেখানো হলেও একদিনও কোন শ্রমিককে কাজে লাগানো হয় নি। ঘোষগাঁও ইউনিয়নে তালতলি থেকে কালিহরপাড়া পর্যন্ত রাস্তায় কোন মাটি কাটা হয় নি। প্রকল্প অনুযায়ী বালিগাঁও মফিজের বাড়ির পাশে নদীর পাড়ে ব্রিজের গোড়ায় মাটি দেওয়া হয় নি। অন্যদিকে ঘোষগাঁও বাজার থেকে বালিগাঁও পর্যন্ত রাস্তায় শ্রমিকের বদলে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে। এসব বিষয়ে ঘোষগাঁও ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ডাঃ জামরুলের জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন উজ্জ্বল বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।