খালিয়াজুরী হাওরে আকস্মিক গরম বাতাসে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ

খালিয়াজুরী হাওরে আকস্মিক গরম বাতাসে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ

মোঃ আবুল হোসেন, খালিয়াজুরী প্রতিনিধি: নেত্রকোণা জেলার হাওড় দ্বীপ খালিয়াজুরী উপজেলা। হাওড়বেষ্টিত খালিয়াজুরী উপজেলায় বর্ষার চর্তুদিকে পানি আর পানি, শুকনোয় বোরো ধানের সবুজের সমারহ। প্রতিবারের ন্যায় এ বছরেও বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। যেখানে কৃষকের সারা বছরের ক্লান্তি কষ্ট ভুলে একমুঠো খুশির অপেক্ষায় এবং কৃষাণির মুখে লেগে থাকা হাসি একটা নতুন স্বপ্ন যেখানে সত্য হতে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে গেল এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

গতকাল রবিবার (৪এপ্রিল) খালিয়াজুরীতে বিকাল ৬টা থেকে শুরু করে আনুমানিক রাত ১১টা পর্যন্ত এক আচমকা গরম বাতাস বয়ে যায়। প্রায় তিন থেকে চার ঘন্টা স্থায়ী ছিল এই গরম বাতাস। কৃষকরা শেষ পর্যায়ে যে জমিগুলোতে ধানের চারা রোপন করেছিল এতে আচমকা গরম বাতাসে তোর থেকে ভের হওয়া ধানের শিষগুলো পরেরদিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে শুকিয়ে যায়। সেই সাথে ধানের পাতার রং সবুজ থেকে পরিবর্তন হয়ে শুকিয়ে সাদায় পরিণত হয়। এতে কৃষকদের হাইব্রিড আর ব্রি'আর ২৯ ধান মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাইব্রিড ধানের পাতাগুলোও জ্বলসে যায় যাকে কৃষির ভাষায় বলে প্লাগ লিপ। যেখানে কৃষকেদের স্বপ্ন ছিল এবারের ফসল তুলে হাজারো ইচ্ছা পূরণ করবে। কিন্তু কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে হাওড়ের কৃষক - কৃষাণীরা। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুড়মাড় হয়ে যায়। এতে কৃষকরা আজ হতাশা ও দুর্দশাগ্রস্ত। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সোমবার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম, সাথে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান সুমন চক্রবর্তী, সহকারী (ভূমি) নাহিদ হাসান খাঁন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান ও সাংবাদিকবৃন্দ। অন্যদিকে কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান এর নেতৃত্বে উপসহকাারীদেরকে নিয়ে মাঠে ছড়িয়ে পড়ে একটি পরিদর্শন টিম।   

খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে সারা উপজেলায় ২১ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়। যার লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১লাখ ২৬হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড। ২৫০০ হেক্টর জমিতে ব্রি’আর ২৯, ৮৭২৩ হেক্টর জমিতে ব্রি’আর ২৮, ২২০০ হেক্টর জমিতে ব্রি’আর ৫৮ ও  স্থানীয় জাতের কিছু ধান কৃষকরা চাষ করেছিল। কিন্তু এবারের ফসলে হাইব্রিড আর ব্রি’আর ২৯ ধান মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার পরিমাণ সারা উপজেলায় ১০-১৫%। তিনি আরো জানান এই অবস্থায় জমিতে পর্যাপ্ত সেচ ও ছত্রাকনাশক স্প্রে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা পূরণ করা সম্ভব। 

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষি অফিস সহ উপজেলা প্রশাসন সবসময় কৃষকদের পাশে থেকেছি, আছি এবং পরবর্তীতেও থাকব ইনশাল্লাহ। কৃষকদের যে পারমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এতে আমরা উদ্ধর্তন কতৃপক্ষ জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে সহায়তা করার জন্য আমরা সর্বোচ্ছ চেষ্টা করে যাচ্ছি।