মদনে বোরো ধানে ছিটা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে কৃষকের মাথায় হাত

মদনে বোরো ধানে ছিটা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে কৃষকের মাথায় হাত

মদন প্রতিনিধি: বোরো মৌসুমে নেত্রকোণার মদনের হাওরের এক একমাত্র ফসল আবাদ করে এখন কৃষকের মাতায় হাত। রোববার রাত সন্ধ্যা পাচঁটা থেকে রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার সময়  গরম এক  জোড়ো বাতাস বয়ে যায় এতে তোর বের হয়ে যাওয়া  ধান গাছ নষ্ট হয়ে ছিটা হয়ে গেছে।  মদন উপজেলার পৌরসভাসহ ৮ ইউনিয়নের বোরো ফসলসহ ঘরবাড়ি,আমসহ ব্যাপক  ক্ষতি হয়েছে। ।ঋনের টাকায় বোনে এমন ক্ষতি হওয়ায় সরকারি সাহায্য চেয়েছেন তারা।  সূর্য্যরে প্রকরতা বাড়ার সাথে সাথে উঠতি বোরো ফসল ধানের শীষ মরতে শুরু করে ক্ষেতের পর ক্ষেত, মাঠের পর মাঠ। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গেল কয়েক বছরের চেয়ে এবার উপজেলায় রোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। হাওরে ২৮ জাতের ধানসহ কাটা শুরু হয়েছে বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড ধান। বেশির ভাগ জমির ধানই পাকতে শুরু করেছিলো। কষ্টে ফলানোর সোনার ফসল ঘরে তুলতে অনেকেই ব্যস্থ সময় পার করছিলেন হাওর পাড়ের কৃষক-কৃষাণীরা। কিন্তু রবিবার রাতের কয়েক ঘন্টার গরম বাতাস কৃষকদের সব স্বপ্ন বিলীন করে দিয়েছে। কৃষকের কান্নায় ভারী হয়েছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাওরাঞ্চল। সোনালী ফসল এখন রূপালী রং ধারন করেছে। শুধু ধান নয় এর সাথে পাঠেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

সাইতপুর গ্রামের কৃষক আদর উদ্দিন,সুলেমান মিয়া জানান, আমরা মানসের কাছ থেকে অধিক সুদে টাকা এনে জমি করে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি জমি পুরে নষ্ট হয়ে গেছে। কি খাব ? মানসের ঋনের টাকা পরিশোধ করব কেমনে? তিয়শী ইউপি চেয়ারমান ফকর উদ্দিন আহমেদ জানান, আমি ১০ একর জমি কওে ছিলাম,গতকাল গরম এক বাতাসে আমারসহ এলাকার সকল তোর হওয়া  বোরো জমি ছিটা হয়ে গেছে। কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা তাদেও পক্ষে সম্ভব নয়।  

মদন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রায়হানুল হক জানান, রোববার বিকেল থেকে বৃষ্টি কিংবা শিলা বৃষ্টি ছাড়া শুধু বাতাস প্রবাহিত হয়েছিল। তা রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত চলে। মাঠের যে ধান ক্ষেত গুলো তোড় এসেছিল সেগুলো সোমবার সকাল থেকে শুকিয়ে যাচ্ছে। ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জরিপ করছি, বিশাল হাওরে ক্ষতির বিষয়টি নিরুপণ করতে একটু সময় লাগবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান মদন উপজেলার বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করে বলেন, অতি গরম আবহাওয়ায় এমনটা হয়েছে। ফুল আসা ধান সব চিটা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আছে, জরিপ শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।