গ্রন্থ পর্যালোচনা আমার তবে কেউ হোক: প্রেম-বিরহ, প্রকৃতি ও জীবনবোধ এক রশিতে প্যাঁচানো একটি ফলক"

গ্রন্থ পর্যালোচনা আমার তবে কেউ হোক: প্রেম-বিরহ, প্রকৃতি ও জীবনবোধ এক রশিতে প্যাঁচানো একটি ফলক"

মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম: কবি তানভীয়া আজিম। তাঁর লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ "আমার তবে কেউ হোক"। বইয়ের প্রচ্ছদ ও কবি পরিচিতিটা দেখে আমি যারপরনাই অবাক হয়েছি, এমন লেখক পরিচিতি আমি জীবনেও দেখিনি। কাজেই বইটা পড়ার প্রতি আগ্রহ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। ফলে বইটি আমি এক বসাতেই পড়ে শেষ করেছি।

আমাকে যদি পাঠ মূল্যায়ন করতে বলা হয় কিংবা বইটির উপর আলোচনা করতে চাওয়া হয় অথবা বইয়ের সমালোচনা লিখার জন্য লেখক বলেন, তবে একজন অতিক্ষুদ্র পাঠক হিসেবে বইটি পড়ে যে অনুভূতিটুকু জন্ম নিয়েছে তা যদি কলমি ভাষায় বলি, তবে শিরোনাম করতেই হয়, "প্রেম-বিরহের সাথে প্রকৃতি ও জীবনবোধ: এক রশিতে প্যাঁচানো একটি ফলক"

বিবরণে যা লিখবো তা যদি আমার কলমের ভাষায় তুলে ধরি তবে শুরুতেই বলব, লেখক গভীর প্রেম, বিরহ, অভিমান, রোমান্টিকতা, জীবনবোধ ও আধ্যাত্মিকতার সার্থক প্রয়োগ করেছেন তার এই বইটিতে। অল্প অল্প কথায় ছোট ছোট ভাবাবেগগুলো অত্যন্ত সুনিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলে ধরেছেন এই লেখিকা।

তার কবিতাগুলো পড়লেই মনে হবে যেন সবুজের গালিচায় মোড়ানো গভীর মমত্ববোধ থেকে তিনি চেষ্টা করেছেন প্রতিটি বিষয় ফুটিয়ে তুলতে। 

তার লেখায় যে গভীর প্রেম এঁকেছেন যদি সেই প্রেমের উদাহরণ দেই, তবে তাঁর লেখা থেকে কয়টা লাইন তুলে ধরছি যাতে জ্ঞানী পাঠকের বোধগম্য হয়। তিনি 

লিখেছেন-
"আপনার চোখজোড়া আমাকে গ্রাস করার আগেই
আমি হেসে ফেলি আগের মতো 
আপনাকে দেখলেই যেন সুখী আমি,
শুকিয়ে যায় ভেতরের ক্ষত"

বিদ্যান পাঠক বুঝতেই পারছেন কতটা পাকা হাতে তিনি সাজিয়েছেন তার কবিতার গাঁথুনি। তার প্রেমের একটা অনন্য দিক আমায় পাঠক হিসেবে আকৃষ্ট করেছে, তা হলো - তিনি তার নাথকে আপনি বলে সম্বোধন করেন সবসময়। 

লেখাটি অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে তাই বেশিকিছু লিখতে সুযোগ থাকলেও ব্যাস্ত পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাইনা। 

লেখার আরেকটা বিশেষ দিক হলো, প্রেমের বিকেলে বিরহের আনাগোনা। বিরহটাও মধুর ভাষায় ফুটে আছে তার লেখায়। তিনি লিখেছেন-
"এড়িয়ে গেছে পেরিয়ে যাওয়া মুহূর্ত 
যে সময়গুলো বলার ছিলো ভালোবাসি 
আঙুলে ছোঁয়া আঙুল বাড়িয়েছে হাত
থাকবে বলে পাশাপাশি (রাত)"

অন্যদিকে আবার গভীর অভিমানও দেখা যায় কবির কবিতায়। তিনি অভিমানের ছলে লিখে গেলেন-
"কোন একদিন, দেখা হলে 
ঠিক চোখ এড়িয়ে যাবো 
পিছন ফিরে তাকাবো না আর
ভালোবাসি বলেই জিতে গেছেন আপনি 
আমার হয়েছে সকল হার"

কেবল বিরহ আর অভিমানই নয়, কিছু রোমান্টিক কথাও দেখা যায় তার লেখনীতে। তিনি ফুটিয়েছেন এইভাবে-
"ইচ্ছে করে কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়ুক
আমার জন্য তার খুব পুড়ুক 
একটা ভালোবাসা রঙ এর শাড়ি নিয়ে এসে বলুক
বর্ষা, শরৎ, ফাল্গুন এঁকে দেবো তোমার আঁচলে
আমি অবাক করা চোখ, কুচকে যাওয়া ভ্রু
আর একগাল হেসে বলবো, 
তবে কি চিঠি না দিয়েই প্রেম এলো আমার শহরে 

তিনি জীবনবোধের গভীরতা থেকে লিখেছেন, 
"শেষ বিদায়ের কত আয়োজন
পরপারের যাত্রী হলেই ফুরায় প্রিয়জনের প্রয়োজন 
বেঁচে থাকতে কত নাম, কত উচ্ছ্বাস 
মরে যায় মানুষ, বেঁচে রয় লাশ"

আবার আধ্যাত্মিকতাও দেখা যায় তার লেখনিতে-
"চিত্তে সাজিয়ে বাঁশের বেড়া
বাহিরে দেখাও দেয়াল
ভেতর খেয়েছে ঘুণে তোমার 
রাখোনি তার খেয়াল"

যার প্রথম লেখা গ্রন্থটি এত মধুর, তার পরের লেখাগুলো  নিশ্চয়ই পাঠক নন্দিত হবে। পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাইনা। তাই কবির প্রতি দোয়া, ভালোবাসা রেখে সুহৃদ পাঠকের ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।