ভিক্ষা করে সংসার চালায় কেন্দুয়ার রুমেলা

ভিক্ষা করে সংসার চালায় কেন্দুয়ার রুমেলা

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া  প্রতিনিধি : রুমেলা। কষ্টেভরা তার জীবন। শিশু বয়সে ডান চোখটি হারান তিনি। সাথে মূখমন্ডলের অর্ধেক অংশ জ্বলসে যায়। বাবা-মায়ের অভাব-অনটনের সংসারে আস্তে আস্তে বড় হয় রুমেলা।  বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনি যেন পরিবারে বোঝা হয়ে ওঠেন। এক সময় তাকে বিয়ে  দেয়া হয় বয়স্ক স্বামীর কাছে। যার কথা বলছি তিনি হলেন নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউপির গগডা উত্তর পাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের স্ত্রী রুমেলা। ভিক্ষাবৃত্তি করে চলায় সংসার। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে তিনি ভিক্ষা করতে আসেন কেন্দুয়া পৌরশহরের রূপালী ব্যাংকের নীচে এসে বলতে থাকেন, ওবাবাজিরা আল্লারস্তে কিছু সাহায্য করবাইন, ওভাইয়েরা আমারে কয়'ডা টেহা (টাকা) ভিক্ষা দিবাইন। এ সময় তার প্রতিবন্ধী কার্ড আছে কি-না প্রতিবেদক জানতে চাই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন,চেয়ারম্যানের দ্বার (কাছে) কতবার গেছি আমারে একটা কার্ড করে দেয় না। আমি গরীব মানুষ। স্বামীডা বুড়া হয়ে গেছে।  কাম-কাজ করতে পারেনা। সংসারে ৪ জন মানুষ আমরা। মেয়ে'ডার বয়স ৭ আর ছেলে'ডার বয়স ৫ বছর। রুমেলার বয়সও ষাটের কোঠায়।

স্বামীর এক কাটা জায়গা আছিল। এই জমিটা আমার সৎ শ্বাশুরির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এখনো এই ভিটেতেই আছি। দুই দিন পর পর জায়গা খালি করে দেয়ার জন্যে শ্বাশুরি চাপ দেয়,গালিগালাজ। কি করাম বাবা! এইতা হুন্নাই থাহি ( কি করবো এসব শুনেই থাকি)।

 মানুষে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে যা পাই তাই দিয়ে চলে রুমেলার সংসার। বাবাজি কষ্টের কথা কার কাছে কইয়াম। গরীবরে কেউ সহ্য করতে পারে না। পুরা কপাল আমার বাপের বাড়ি গেলেও জায়গা পাইনা। ভাইদের হাতে মার খেয়ে বাম হাতের একটি আঙ্গুল বাঁকা ও হাতের কয়েকটি গুরুতর আগাতের চিহ্ন প্রতিবেদকে দেখান আর চোখের জল ছেড়ে  তাকে একটি কার্ড করে দেয়ার আকুতি জানায়। তিনি আরো বলে, শুনছি সরকারে ঘর দিতাছে আমারে  একটা ঘর লইয়া দিবাইন। একটা ঘর পাইলে শ্বাশুরির গালিগালাজ অত্যাচার তাইকা ( থেকে) মুক্তি পাইলামরে ( পাইতামরে) বাজান। আমার পুলা-পাইনের একটু ঠিকানা অইত ( ছেলে-মেয়ের ঠিকানা হইত।

এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. খবিরুল আহসান বলেন, কেন্দুয়ায় মুজিবশতবর্ষে ৫০ জন ভূমিহীনকে ঘর দেয়া হহয়েছে আরো দেওয়া হবে। তার বিষয়ে খোঁজ নেব নিয়মের মধ্যে পড়লে রুমেলার জন্যে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।