হালুয়াঘাটে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে যৌথ সংবাদ সম্মেলন

হালুয়াঘাটে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে যৌথ সংবাদ সম্মেলন

এম,এ মালেক,হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও হালুয়াঘাট আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রæপ এর সভাপতি জুয়েল আরেং কে জড়িয়ে গত ২৩ ফেব্রæয়ারী দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রæয়ারী) দুপুরে পৌর শহরের হোটেল ইমেক্্র ভবনে হালুয়াঘাট আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রæপ ও কড়াইতলী কোল এন্ড কোক ইম্পোর্টাস এসোসিয়েশন এর আয়োজনে যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কড়াইতলী কোল এন্ড কোক ইম্পোর্টাস এসোসিয়েশন এর সভাপতি আলহাজ্ব এম,এ সুরুজ মিঞা লিখিত বক্তব্যে বলেন, হালুয়াঘাট আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রæপ, কড়াইতলী কোল এন্ড কোক ইম্পোর্টাস এসোসিয়েশন, সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন, শ্রমিক এসোসিয়েশন সকল আমদানীকারক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে গত ২৩শে ফেব্রæয়ারী ‘দৈনিক কালের কন্ঠ’ পত্রিকায় “কয়লা পাথরের শুল্ক ফাকিতে আওয়ামী লীগ-বি.এন.পি দোস্তী” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটির বাস্তব চিত্র তোলে ধরছি। 
প্রথমেই আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি প্রকাশিত পুরো সংবাদ জুড়ে কোন নির্ভরশীল সূত্রের বরাতে কোন তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। সংবাদে প্রতিবেদকের মনগড়া ও কল্পনাপ্রসূত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। 
সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে হালুয়াঘাটের গোবরাকুড়া ও কড়াইতলী শুল্ক ষ্টেশনে এল,সির চেয়ে দ্বিগুন পরিমানে কয়লা আনা হচ্ছে। কিন্তু আপনাদের জ্ঞতার্থে জানাচ্ছি যে, গত চার বছর যাবৎ ভারতীয় প্রশাসনিক জটিলতার কারনে ভারতীয় কয়লা নিয়মিত আমদানী করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাকি দেয়ার প্রশ্নই আসে না। ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকায় অর্থনৈতিক প্রভাব হালুয়াঘাটের সর্ব স্তরের শ্রেনি পেশার মানুষের উপরে পড়েছে। যা নিয়ে আমাদের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দুঃখ ও দুর্দশার কথা বিভিন্ন সময়ে আপনাদের গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদে ময়মনসিংহ- ১ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব জুয়েল আরেং ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলী আজগর সাহেবের ব্যবসায়ীক সর্ম্পককে রাজনৈতিক দোস্তী হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে আমরা মনে করি। সংবাদে আরো উল্লেখ করা হয়েছে জনাব জুয়েল আরেং তাঁর পিতা সাবেক এম.পি ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত প্রমোদ মানকিন মহোদয়ের উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যবসায়ী নেতা হিসাবে পদ পেয়েছেন। কিন্তু আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই জনাব জুয়েল আরেং গত ১৫বছর যাবৎ গোবরাকুড়া স্থল বন্দরে নিয়মিত ব্যবসা করে আসছেন এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের বিপদে আপদে পাশে থেকে সকলের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও গোবরাকুড়া আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রæপের সকল সদস্যবৃন্দের সর্বসম্মতিক্রমে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

 সংবাদে ওজন মাপার যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ওজন মাপার যন্ত্র স্থাপনের জন্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু তা অদ্যাবধি বাস্তবায়ন হয়নি। 
    
সংবাদ উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে অনেক বেশি কয়লা ও পাথর নিয়ে ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে ঢোকে। প্রতিবেদক কি করে জানলেন অনেক বেশি কয়লা এসেছে। ওজন দেয়া ছাড়া অনুমান করলেন কিভাবে? আরো বলা হয়েছে ৭০ডলারে এল,সি হয় কিন্তু এখানে ৭৩ ডলারে এল,সি হয় এবং ৭৬ ডলারে টেক্স দেওয়া হয়। গোবরাকুড়া স্থল শুল্ক ষ্টেশনে আমদানীকৃত মাল স্তুপি করন করা হয় সীমানা পিলার থেকে ৬৫০ গজের মধ্যে যা কাষ্টম কতৃক নির্ধারিত। কিন্তু প্রতিবেদক লিখেছেন গোবরাকুড়ার শাপলা বাজার থেকে শুল্ক ষ্টেশনের রাস্তার দুই পাশে সারি সারি কয়লার স্তুপ। 
সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে গত ০৬ ফেব্রæয়ারী শুধু গোবরাকুড়া দিয়েই আড়াই শতাধিক কয়লা বোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং কড়াইতলী বন্দর দিয়ে মাসে চার হাজার টন কয়লা আমদানী করা হয়। যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক তথ্য। বাস্তবতা গত চার বছরেও এক দিনে একশর বেশি কয়লা বোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। এছাড়া কড়াইতলী বন্দরে এক বছরে মাত্র বারো হাজার টন কয়লা আমদানী হয়েছে। 

আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের জানাতে চাই প্রকাশিত সংবাদে প্রতিটি তথ্য ভূল ও অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। যা এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বন্দরের উপর এক অশনি সংকেত বলে আমরা মনে করি। 

বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেখানে গোবরাকুড়া ও কড়াইতলী শুল্ক ষ্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরে উন্নিত করে সকল অবকাঠামোগত উন্নয়ন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করার কাজ করছেন। যা দেখে এই সীমান্তবর্তী অবহেলিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল শ্রেনি পেশার মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করছে। সেখানে এমন বিভ্রান্তি মূলক সংবাদ এ অঞ্চলের মানুষকে ব্যাথিত করেছে। 

পরিশেষে এই বলতে চাই সংবাদে উল্লেখিত দুই জন সম্মানি ব্যক্তি ও আমি সরকারের রাজস্ব আদায়, গোবরাকুড়া ও কড়াইতলী স্থল বন্দরের উন্নয়ন এবং ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে থাকি। সরকারের রাজস্ব ফাকি দেয়ার জন্য নয়। আমরা যাদের সমাজের দর্পন মনে করি সেই সাংবাদিকের দ্বারা এমন আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশ আমাদেরকে উন্নয়ন কাজে সহযোগিতাকে নিরুৎসাহিত করবে। 
অবশেষে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরো পেশাদার আচরণের জন্য অনুরোধ জানাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আনোয়ার খোকন,  হালুয়াঘাট আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রæপ এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য স্টিফেন স্টেনশন রংদী, চন্দন ঘোষ, কাঞ্চন কুমার সরকার, সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন এর সভাপতি আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম পাপ্পু,হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।