নেত্রকোনায় ১ বছরে ২২১টি অস্বাভাবিক মৃত্যু ! জনমনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা

নেত্রকোনায় ১ বছরে ২২১টি অস্বাভাবিক মৃত্যু ! জনমনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা

এ কে এম আব্দুল্লাহ, নেত্রকোনা : ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত গত ১ বছরে নেত্রকোনা জেলায় ২২১টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত বছর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ছিল ১৭৪টি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশীর ভাগ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সড়ক দূর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা, বিষপানে আত্মহত্যা, বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ও পানিতে ডুবে মৃত্যু। সচেতন বিশ্লেষকদের মতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা সরকারী হিসাবের চেয়েও অনেক বেশী। কারণ অনেক সময় নিভৃত পল্লী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কেউ মারা গেলে পুলিশী হয়রানী কিংবা ময়না তদন্তে কাঁটা ছেড়ার ভয়ে প্রশাসনকে না জানিয়ে অথবা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করায় তা সরকারী হিসাবে নথিভূক্ত হয় না। এছাড়াও ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে রেকর্ডভূক্ত করা হয় না।
    নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্র মতে, নেত্রকোনা জেলায় ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে ৬টি, ফেব্রæয়ারী মাসে ১৬টি, মার্চ মাসে ১৮টি, এপ্রিল মাসে ২১টি, মে মাসে ১৪টি, জুন মাসে ২৬টি, জুলাই মাসে ২৩টি, আগষ্ট মাসে ২৫টি, সেপ্টেম্বর মাসে ২২টি, অক্টোবর মাসে ২৬টি, নভেম্বর মাসে ১৩টি ও ডিসেম্বর মাসে ১১টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
   ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নেত্রকোনা জেলা শাখার অন্যতম সংগঠক সাংবাদিক আলপনা বেগম বলেন, সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করতে হলে সবার আগে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রাস্তায় কিভাবে গাড়ী চালাতে হয় সেই সব নিয়ম কানুন সম্পর্কে চালকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ গাড়ী চালক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক, অদক্ষ এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় কেউ যেন গাড়ী না চালায় এবং ট্রাফিক আইন যাতে সবাই মেনে চলে তার জন্য ট্রাফিক বিভাগকে আরো সততা ও আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে হবে।
    পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধ কল্পে জেলা আইন শৃংখলা সমন্বয় সভায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ জানানো হচ্ছে যে, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যেন অদক্ষ চালকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়ক দূর্ঘটনা রোধ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালক, হেলপার ও পথচারীদের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ সড়ক দূর্ঘটনার পরপরই মামলা নিচ্ছে এবং অভিযুক্ত চালকদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।