বিয়ের প্রলোভনে স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে ধর্ষনের অভিযোগে বিবাহিত এক ব্যক্তি কারাগারে

বিয়ের প্রলোভনে স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে ধর্ষনের অভিযোগে বিবাহিত এক ব্যক্তি কারাগারে

কেন্দুয়া প্রতিনিধি :    বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারীকে ধর্ষনের অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রামপুর বাজার এলাকা থেকে বাবুল মিয়া নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে নেত্রকোণা আদালতে পাঠিয়েছে। আদালতের বিচারক তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে বিবাহিত ওই ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 
    মামলার এজাহারের উদ্বৃতি দিয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের দলপা গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে বাবুল মিয়া রামপুর বাজার এলাকায় সিএনজি স্ট্যান্ডের টিকিট মাষ্টার হিসেবে কাজ করতেন। একই গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষন করে। এতে ওই নারী অন্তস্বত্ত¡া হয়ে পরেন। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে বাবুল মিয়া তার সম্পর্ক অস্বিকার করে সেখান থেকে কেটে পড়ার চেষ্ঠা করলে ক্ষতিগ্রস্থ এই নারী আদালতে যান। আদালত ওই নারীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে এফআইআর হিসেবে গন্য করার জন্য কেন্দুয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। গত ৮ জানুয়ারি শুক্রবার ওই নারী বাদী হয়ে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 
মামলার অভিযোগে আরো জানাযায়, দলপা গ্রামে স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারী তার দরিদ্র দাদির সঙ্গে বসবাস করতেন। স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটার পর ওই সুযোগটিকে কাজে লাগান বাবুল মিয়া। তিনি তার দরিদ্র দাদিকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মামলার বাদী অভিযোগ করে বলেন, তার সরলতার সুযোগে তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে মেলা মেশা করতে থাকলে তিনি অন্তস্বত্ত¡া হয়ে পড়েন। কিন্তু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বাবুল মিয়া বিয়েতে রাজী না হয়ে নানান অজুহাত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মামলা করেছি। আদালতের মাধ্যমে আমি তার বিচার চাই। 
কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহ নেওয়াজ বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে ধর্ষনের অভিযোগে আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ নারীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য মহিলা পুলিশী প্রহরায় নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।