শেখ হাসিনা বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্টারকে অব্যাহতিতে নেত্রকোনাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এসেছে!

শেখ হাসিনা বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্টারকে অব্যাহতিতে নেত্রকোনাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এসেছে!

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী নাসির উদ্দিনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গত রোববার বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. রফিকউল্লাহ খান স্বাক্ষরিক এক চিঠিতে তাঁকে এই অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয় ‘বিশ^বিদ্যালয়ের স্বার্থে আপনাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো’।

কাজী নাসির উদ্দিন এর আগে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ছিলেন। অব্যাহতি পত্রটি গ্রহণ করে তিনি গতকাল সোমবার পূর্বের কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। 

কাজী নাসির উদ্দিন এ ব্যাপারে জানান, গত রোববার আমার অব্যাহতি পত্রটি হাতে পাই। এ সময় আমি বিশ^বিদ্যালয়ে ছিলাম। পরদিন সোমবার আমি পূর্বের কর্মস্থলে যোগদান করেছি। হঠাৎ করে কেন অব্যাহতি এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোন কিছু বলতে পারবো না। এটি বিশ^বিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত। তবে আমাকে এভাবে অব্যাহতি দেওয়া উচিত হয়নি। বিশ^বিদ্যালয়ের আইনে এটা নেই। বেশ কিছু প্রসেস মেইন্টিন করে অব্যাহতি দিতে হয়। অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমি কোন পদক্ষেপ নিতে যাব না। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে আমি যেতে পারি না।’ 


এ ব্যাপারে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) রফিকুল্লাহ খান বলেন, ‘তাঁর  (রেজিস্টার) আচরণগতসহ বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। অনেক দিন থেকেই নেত্রকোনাবাসী উনার প্রতি বিরক্ত। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিন্ডিকেট, ইউজিসি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ আরও অনেকেই তাঁর নানা আচরণে বিরক্ত। তাঁর জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে আমাকে বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাঁর উদ্ধত আচরণে মানুষের কাছে আমাকে হাত জোর করে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয়েছে। এ সব বিভিন্ন কারণ মিলিয়ে বিধি সম্মতভাবে বিশ^বিদ্যালয়ের স্বার্থে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

এ দিকে কাজী নাসির উদ্দিনের অব্যাহতি খবর পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ নেত্রকোনাবাসী অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মিল্টন নামে একজন লেখেছেন, ‘চরম বেয়াদব ও দুর্নীতিবাজ’ শ্যামলেন্দু পাল নামে একজন লেখেছেন ‘বিশ^বিদ্যালয়টা রেহাই পেল। অন্তরাশ্রম আইডিতে একজন লেখেন, নেত্রকোনার মানুষকে আর এই আনসিভিলাইজড মানুষটির চেহারা দেখতে হবে না। 

 নেত্রকোনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল বলেন, ‘কাজী নাসির উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই নেত্রকোনাবাসীর সঙ্গেও অশোভন ও উর্দ্ধত আচরণ করতেন। বিশ^বিদ্যালয়ে মনে হতো তিনিই সব কিছু। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করতেন। যে কারণে একদিন তাঁর পক্ষ হয়ে ভিসি মহোদয় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান। এ ছাড়া তিনি তথ্য গোপন ও স্বজন প্রীতি করে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাশ করা তাঁর আপন ছোট বোন কাজী ইসমত জাহানকে অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তাঁর অব্যাহতির খবর পেয়ে নেত্রকোনাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। 


স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শহরের রাজুর বাজার এলাকায় ৫০০ একর জমিতে স্থাপিত হচ্ছে বিশ^বিদ্যালয়টি। বর্তমানে ওই এলাকায় টিটিসিতে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বছর একনেকে ২ হাজার ৬৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়। কাজী নাসির উদ্দিন গত ২০১৮ সালে ৩ সেপ্টম্বর প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।