নেত্রকোনায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণের মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক

নেত্রকোনায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণের মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক

 নেত্রকোনা প্রতিনিধি : প্রতিপক্ষের হামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিজ বাড়ি ছেড়ে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১৭ দিন ধরে  পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দৈনিক করতোয়া, দৈনিক ভোরের দর্পণ, দি ডেইলী ট্রাইব্যুনালের নেত্রকোনা প্রতিনিধি সুলতান আহমেদ। শুক্রবার মধ্য রাতে জেলা শহরের বনুয়াপাড়ায় পুলিশ সুলতান আহমেদের বাসায় অভিযান চালায়। 
 সুলতান আহমেদ জানান, জেলা শহরের কুরপাড় এলাকার বাসিন্দা কাস্টমস কর্মকর্তা ইসকান্দর মিয়ার মেয়ে রাজিয়া সুলতানা লাকীর সাথে প্রেম ও পরিচয়ের সুবাদে ২০০৫ সালে তার সাথে বিয়ে হয়। পরে লাকীর পরিবার বিয়েটি মেনে না নেয়ায় তাদের মাঝে ছাড়াছাড়ি হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর গত ২৩ অক্টোবর ফের সুলতান আহমেদের সাথে জেলার বারহাট্টার বাউসীতে কাজির মাধ্যমে উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে হয়। আবারও মেয়েকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা করছেন ইসকান্দর মিয়া। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শণ করা হচ্ছে। লাকীর ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৬ নভেম্বর সুলতান আহমেদের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২-৩জনের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় অপরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। প্রতিপক্ষের হামলা ও পুলিশী হয়রানীর ভয়ে স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে নিয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাংবাদিক সুলতান। অন্যদিকে রাজিয়া সুলতানা লাকী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ৯ গত ডিসেম্বর ঢাকার মুগদা থানায় ৫০৯ নং জিডি করেছেন। বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য পুলিশের আইজি, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এই দম্পত্তি। এ ছাড়া সহযোগিতা কামনা করে হয়রানীর হাত থেকে রক্ষার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে, গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ভিডিও পাঠিয়েছেন রাজিয়া সুলতানা।
 সুলতান আহমেদ বলেন, আমি জোর করে কাউকে অপহরণ করিনি। আমরা উভয়েই প্রাপ্ত বয়স্ক এবং ইসলামী বিধান মতে আমাদের বিয়ে হয়েছে। এখন বেকায়দায় ফেলানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 
 নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি ও ভিকটিমকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদেরকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।