ভূমিহীনদের গৃহনির্মাণে বাধা সরকারি জমি দখলের পায়তারা

ভূমিহীনদের গৃহনির্মাণে বাধা সরকারি জমি দখলের পায়তারা

পূর্ব ধলা প্রতিনিধি : কোনার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা বাজারের পাশে সরকারি জমির বড় একটা অংশ জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামী ভূমিদস্যু বুলবুল মীর। এতে সরকারিভাবে বরাদ্ধকৃত ভূমিহীনদের গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ওই জমিতে মাটি ভরাট করতে গেলে বাধাসহ ভূমি অফিসের লোকজনদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে দখলকারী ওই ব্যক্তি।
জানা গেছে, শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবেনা এই প্রতিশ্রুতি পূরনের অংশ হিসেবে নেত্রকোনার পূর্বধলার হোগলা ইউনিয়নে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৯ গৃহহীন পরিবারকে গৃহ নির্মানের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার প্রকল্প গৃহীত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য হোগলা বাজারের পাশে সরকারি জমিতে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য মাটি ভরাট করতে গেলে জমিটি নিজের দাবী করে বাধা দেন হোগলা বাজারের বাসিন্দা সুরুজ আলী মীরের পুত্র বুলবুল মীর। এ সময় ভূমি অফিসের লোকজন তাকে বাধা দিলে উল্টো তাদের দেখে নিবেন বলে হুমকি দেন। বুলবুল মীরের দাবী এই জমি তাদের নিজের। এ নিয়ে ১৮বছর ধরে আদালতে মামলা চলমান আছে এবং ইতি মধ্যে তাদের পক্ষে ডিগ্রি পেয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন। তবে বুলবুল মীরের পিতা মামলার বাদী সুরুজ আলী মীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুমকে লিখিতভাবে অবহিত করেন যে এই মামলার বিষয়ে তাকে বাদীগং উল্লেখের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।   
হোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানান, ভুমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়ার জন্য নির্বাচিত ৭২শতক জমি ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। যা ১৯৫০ সালে সূর্যকান্ত আচার্য্য ও শশীকান্ত আচার্যের কাছ থেকে প্রজাস্বত্ব আইনমূলে জমির মালিকানা সরকারের নিকট আসে । ততপ্রেক্ষিতে ৭২ শতাংশ (৮৯০৫) দাগের ভুমি ময়মনসিংহ কালেক্টরেট পুর্বপাকিস্থানের নামে রেকর্ড হয়। যা পরবর্তীতে ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে বিআরএস রেকর্ডে ১৭২২৫ দাগে ৩০শতক, ১৭২২৬ দাগে ৩৪ শতক ভূমি কান্দাভুক্ত হয়। যা জেলা প্রশাসক নামে চুড়ান্ত রেকর্ড হয়। তা সত্যেও বুলবুল মীর প্রচারণা চালায় আদালতে মামলা আছে এমন সংবাদে যাচাই করে দেখা যায় ঐ জমিতে তাদের কোন মালিকানা নেই। তিনি আরও জানান ওই জমিতে মাটি ভরাট করতে গেলে বুলবুল মীর দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে এলাকাসীর সাথে কথা বললে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান বুলবুল মীর এলাকার একজন চিহ্নত সন্ত্রাসী। সে নিজেকে যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে আসলেও তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন বেগম সেতু বলেন, ১৯৭৬ সালে আদম মীর ও বাদল মীর অন্যপ্রকার মামলা দায়ের করেন। যা ৭ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে সরকারের পক্ষে রায় আসে। পরবর্তীতে সুরুজ মীরকে বাদী করে জেলা যুগ্ম জজ আদালতে আপিল করলে আদালত ৩১ জুলাই সরকারের পক্ষে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।  পরবর্তীতে পূনরায় উচ্চ আদালতে আপিল করলে উচ্চ আদালত ১১ ডিসেম্ভর ২০০২ সালে ৬ সপ্তাহের জন্য স্থিতিবস্থা জারি করেন।
পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম বলেন, সরকারি জমিতে ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়া গৃহনির্মাণ কাজে কেউ বাধা প্রদান করতে পারবে না। জমি নিয়ে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন এটা বুলবুল মীরের জমি ভোগ দখল করার একটা অপকৌশল মাত্র।  কেউ সরকারি কাজে বাধা প্রদান করলে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে তাদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।