ফ্রান্সে মহানবী সাঃ এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে পূর্বধলার হিরনপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 ফ্রান্সে মহানবী সাঃ এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে পূর্বধলার হিরনপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম : বিশ্ব কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলে গেছেন "রাসূলের অপমানে যদি না কাঁদে তোর মন, মুসলিম নয় মুনাফিক তুই, রাসূলের দুশমন" সাম্প্রতিক ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনী ও ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম বলে আখ্যায়িত করা প্রতিবাদে সারাদেশের ন্যায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলার হিরনপুর এলাকার সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর ২০২০) দুপুরের দিকে বাগড়া ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কাদির এর নেতৃত্বে হিরনপুর বড় মসজিদ থেকে জোহরের নামাজ বাদ বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি হিরনপুর বাজারের বিভিন্ন গলি প্রদক্ষিণ করে বিশ্বরোড হয়ে নারান্দিয়া পর্যন্ত যায়। পরে সেখান থেকে ফিরে হিরনপুর উচ্চবিদ্যালয় জামে মসজিদের সামনে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও কটুক্তিকারীদের হেদায়েত কামনায় 
 
মুখতাসর মোনাজাত করা হয়।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা উপজেলা 
সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাসুম মোস্তফা, শাহ মোশারফ হোসেন পীর সাহেব মোমেনশাহী,  হিরণপুর বাজার মসজিদের খতিব মুফতি শফিকুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি খাইরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, পূর্বধলা ইত্তেহাদুল মাদারাসিলি আরাবীয়া এর সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নোমান সিরাজীসহ অনেকেই।

সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাসুম মোস্তফা ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী কে লক্ষ করে বলেন, আপনি তাকিয়ে দেখুন আজকের বিশ্বে কতজন লোক আপনার পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু ইসলামের ইজ্জত এর উপর আপনার অবমাননাকর বক্তৃতার পড়ে সারা বিশ্বে কত কোটি মানুষ রাজপথে নেমেছে। এ সময় তিনি ফ্রান্সের সরকারকে সতর্ক ও হুশিয়ার করেন। পীরসাহেব শাহ মোশারফ হোসেন বলেন, আমাদের আন্দোলন সবেমাত্র শুরু যতদিন না আপনি প্রকাশ্যে মুসলমানের কাছে মাপ চাইবেন ততদিন পর্যন্ত আমাদের আমাদের গ্রামে, গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় এ আন্দোলন চলবেই চলবে। 

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল কাদের সাহেব পূর্বধলা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইসলামের ইতিহাসে আছে, কাবাঘর ধ্বংসের জন্য আব্রাহার বাদশা এসেছিল, তাকে আবাবিল পাখি দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আপনি তো আবরাহার বাদশার চাইতেও শক্তিশালী নন, আপনার পতন অবশ্যম্ভাবী। মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাই, হে আল্লাহ  আমাদের কলিজার টুকরা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যারা অপমান করেছে তাদের কপালে যদি হেদায়াত থেকে তাকে তবে তাদেরকে হেদায়াত করো। আর যদি হেদায়াত তাদের ভাগ্যে না থাকে তবে তুমি তাদেরকে পৃথিবী থেকে চিরতরে ধ্বংস করে দাও।

পরে রাসূলের প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে জাগ্রত তৌহিদী জনতা দোয়ার মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভার সমাপ্ত করেন।