মদনে খাল দখল করে প্রভাবশালীদের মাছ নিধন   

মদনে খাল দখল করে প্রভাবশালীদের মাছ নিধন   

মদন প্রতিনিধি : নেত্রকোণার মদনে ধুবাওয়ালা গ্রামের প্রভাবশালীরা সরকারি খাল দখল করে বাঁধ দিয়ে মাছ নিধন করায় নৌ চলাচল ব্যাহতসহ জীবিকা নির্বাহকারী জেলেরা মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের পিছনের মগড়া নদী থেকে বালই নদীর সংযোগ প্রায় ৮/৯ কিলোমিটার আলহুলহুলিয়া খালটি উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে হাওরাঞ্চলের লোকজনের যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খালিয়াজুরী, ইটনা, ধিরাই ও তলার হাওরে বোরো ধান আবাদে কৃষকগণ নৌ-যোগে এ পথে যাতায়াত করে থাকে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবিরা এ খালে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্ত বেশ কিছুদিন যাবত একটি প্রভাবশালী মহল মসজিদের নাম ভাঙ্গিয়ে খালটি দখল করে ধুবাওয়ালা বাজারের পিছনের অংশে বাঁধ দিয়ে মাছ নিধন করছে। এতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোকজন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এলাকার সাধারন মানুষের দাবি খালের বাঁধটি দ্রæত অপসারন করে লোকজনের যাতায়াতের পথ সুগম করতে। এছাড়া উপজেলার আট ইউনিয়নে মুক্ত জলাশয় খাল, বিল, নদী দখল করে প্রভাবশালীরা তাদের সুবিধামত বাঁধ দিয়ে মাছ ধরায় সাধারন লোকজন দারুন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জনগণ যেমন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি সরকারও হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। মুক্ত জলাশয় প্রভাবশালীদের দখল নিয়ে প্রতিবছরই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।বৃহস্পতিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ খালের ধুবাওয়ালা বাজারের পাশে বাঁশের ঘের, জালে বাঁধ দিয়ে মাছ নিধন করছে। নৌ চলাচলের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। হাওর থেকে নৌযানগুলো আসলেও রাস্তা বন্ধ থাকায় হাওর এলাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। বাঁধের ছবি তেলার সময় তিয়শ্রী ইউপি সদস্য মিঠু মিয়া লোকজন নিয়ে এলাকাবাসীর দোহাই দিয়ে মসজিদ উন্নয়নে টাকা ব্যয় করা হচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি আরো জানান, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হেলাল উদ্দিন তালুকদার খাল বন্ধ করে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ করছেন। খাল মুক্ত করলে পুকুরও যেন মুক্ত হয়। 
এ সময় ধুবাওয়ালা গ্রামের আব্দুল কাদির ও বাবু জানান, বাঁধ দেয়ায় এ খাল দিয়ে এখন আর কোনো নৌকা চলাচল করতে পারে না। গরীবরা আগে জাল দিয়ে মাছ ধরতো, এখন জাল দিয়ে মাছ ধরতে গেলে তারা জাল রেখে দেয়। কেহ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ধুবাওয়ালা গ্রামের হেলাল উদ্দিন তালুকদার জানান, প্রভাবশালী মহলটি কাউকে পরোয়া করে না। আলহুলহুলিয়া খালে বাঁধ দিয়ে নৌ-চলাচলের বাঁধা সৃষ্টি করছে। এলাকাবাসী এ নিয়ে কথা বললেই মারধর করে।  সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ফখর উদ্দিন আহমেদ জানান, এটি একটি সরকারি খাল। বিশেষ করে হাওরের মানুষ এ খাল দিয়ে নৌ-যোগে যাতায়াত করে থাকে। আমার ইউপি সদস্য বা যে কেহ হোক নৌ চলাচলের জন্য বাঁধটি খুলে দিতে হবে। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা ও পুলিশকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করেছি।