দুর্গাপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় কাজ করছেন ইউএনও ফারজানা খানম  

দুর্গাপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় কাজ করছেন ইউএনও ফারজানা খানম  

দুর্গাপুর প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও অরক্ষিত ও অবহেলায় পড়ে আছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন  বধ্যভূমিগুলো। এখনও অনেক চিহ্নিত জায়গা গুলোতে নির্মাণ করা হয়নি কোনো স্মৃতিফলক। বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অনেক পরিবর্তন হলেও অত্র এলাকার বধ্যভূমিগুলোর কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ঐসকল বধ্যভুমি গুলোকে চিহ্নিত করে স্মৃতিফলক নির্মান করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ইউএনও ফারজানা খানম।এ নিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, স্মৃতিফলক নির্মান নিয়ে অনেকের মাঝে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার সাধারণ মানুষ। স্মৃতিফলক নির্মিত না হওয়ায় অত্র এলাকার ছোট-বড় ০৫টি বধ্যভূমির অধিকাংশই হারিয়ে যেতে বসেছে। উপজেলার বিরিশিরি, গাওকান্দিয়া ও কুল্লাগড়া ইউনিয়নে সীমান্তবর্তী এলাকা বিজয়পুর ও আরাপাড়া এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় এলাকার আলবদর ও রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ ও মুক্তিকামী অসংখ্য বাঙালিকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে এসব বধ্যভূমিতে ফেলে রাখত। ১৯৭১ সালে পাকসেনারা অসংখ্য মা-বোনকে নির্যাতনের পর হত্যা করে বিরিশিরি এলাকায় মাটিতে গনকরব দিতো আবার কিছু লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিতো। অগণিত শহীদের রক্তে ভেজা এসব জায়গা সংরক্ষণের অভাব মুছে যেতে বসেছে। অনেকেই এসব স্থান অবৈধ দখলের পাঁয়তারা করছে। অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থাকলেও তা সংস্কার সহ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ। এ নিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সোহরাব হোসেন তালুকদার বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর বিভিন্ন সময়ে বধ্যভুমি গুলো রক্ষার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে অনুরোধ জানিয়েছি। অন্য ইউএনও গন চেস্টা করলেও তা বাস্তবে রুপদিচ্ছেন বর্তমান ইউএনও ফারজানা খানম। তিনি অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকা বধ্যভূমিগুলো সংস্কারের যে উদ্দ্যেগ নিয়েছেন এতে আমরা মুক্তিযোদ্ধাগন গর্বিতবোধ করছি। শুধু তাই নয় অত্র এলাকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সংরক্ষন করার জন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ছবি সহ একটি বই প্রকাশের যে উদ্দ্যেগ নিয়েছেন তিনি, এতে আমরা মরেও শান্তি পাবো।  বধ্যভুমি ও স্মৃতিফলক তৈরী নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম যুগান্তর কে বলেন, আমি গর্বিত এই দেশে জন্মগ্রহন করে। বাংলাদেশে এখনো অনেক মুক্তিযুদ্ধেও ইতিহাস রয়েছে যা সংরক্ষন করা হয়নি। কালের আবর্তে অনেক মুক্তিযোদ্ধাগন হারিয়ে যাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উপজেলা পর্যায় থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। জানিনা আমি কতটুকু করতে পারবো তবে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে জাগয়া গুলো চিহ্নিত করে স্মৃতিফলক তৈরি করায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।