কেন্দুয়ায় বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট আহত ৫

কেন্দুয়ায় বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট আহত ৫

কেন্দুয়া প্রতিনিধি :  নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রæতার যের ধরে পাইকুড়া ইউপির পেচুন্দরী গ্রামের মনিরুজ্জামান মজনু ও তার ভাইদের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে প্রতিবেশি শফিকুল ইসলাম ময়না গংরা। বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে শফিকুল ইসলাম ময়না গংদের এ তান্ডব লীলা। এসময় মনিরুজ্জামান মজনু’র ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা বাবাসহ নারী-পুরুষ ৫ জন গুরুতর আহত হন। পরে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ও পেমই তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর থেকে শফিকুল ইসলাম ময়না বাহিনীর হুমকী-দমকীতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভূক্তভোগী মনিরুজ্জামান মজনু ও পরিবারের লোকজন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এঘটনায় ভূক্তভোগী মনিরুজ্জামান মজনু বাদী হয়ে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সূত্র জানায়, শফিকুল ইসলাম ময়না ও তার বাহিনীর সদস্যরা দাঙ্গাবাজ ও লুন্টনকারী। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মনিরুজ্জামান মজনু’র পরিবার ও এলাকার নিরীহ লোকজন। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ কেউ করলেই চলে নানাভাবে নির্যাতন। শত অন্যায় করলেও নীরবেই সইতে হয় তাদের। গত ৭ অক্টোবর বুধবারের ঘটনা ছাড়াও মনিরুজ্জামান মজনু’র পরিবারে ওপর চলতি বছর মার্চ,এপ্রিল ও জুলাই মাসে আক্রমন ও হামলা করে আহত করে ময়না বাহিনী। এঘটনায় ৩২৬ ধারাসহ নানা অপরাধে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে থানায়। গত ৬ অক্টোবর একটি মামলায় হাজিরা দিতে গেলে দুই জন আসামীর জামিন না মঞ্জুর জেল হাজতে পাঠায় আদালত। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন ৭ নভেম্বর ময়নাসহ তার বাহিনীর সদস্যরা মজনুর বাড়িতে ভাংচুরের তান্ডব লীলা চালিয়ে নগদ অর্থসহ প্রায় সাড়ে ৭/৮ লাখ টাকার আসবাবপত্র লুটে নিয়ে যায়। বাদীর অভিযোগে বলেন, ২নং আসামী কামরুল ইসলাম বাদীর বসতঘরের সুকেসের ড্রয়ার ভেঙ্গে ৯০ হাজার টাকা, মামলার প্রধান আসামী শফিকুল ইসলাম ময়না বাদীর ভাই বদরুলের বসতঘরের সুকেসের ড্রয়ার ভেঙ্গে ৬০ হাজার টাকা, ৯নং আসামী ইউসুফ মিয়া বসতঘরের সুকেসের ড্রয়ার ভেঙ্গে বাচ্চু মিয়া ১লাখ ২০ হাজার টাকা,ওমর ফারুকের ঘর থেকে ৫৫ হাজার,নুরুল ইসলামের ঘর থেকে ১ লাখ টাকাসহ ৪টি পরিবারের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনসপত্র হামলাকারী লুটে নিয়ে যায়। মনিরুজ্জামান মজনু জানান, শফিকুল ইসলাম ময়না বাহিনীর অত্যাচারে আমার ও এলাকার নিরীহ মানুষ অতিষ্ঠ। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ যেই তার কপালে দুর্গতি আছে। আমাদের ওপর এই বছরেই আরো ৩ বার হামলা চালিয়েছে তারা। থানা মামলায়ও হয়েছে। ৬ অক্টোবর একটি মামলা হাজির হলে আদালত ২ জনকে জামিন না দিয়ে জেলে পাঠায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরের দিন আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আমাদেরকে মারধোর ও সবকিছু লুটে নিয়ে যায়। তােেদর হামলা থেকে রেহায় পায়নি আমার ৯০ বছর বয়সের পিতা। বাবা অবস্থা এখন খুব আশঙ্কাজনক। আমরাও তাদের নানান হুমকীর ভয়ে বাড়িঘরে যেতে পারছিনা। আমরা তাদের অত্যাচার আর সইতে পারছি না। 
এব্যাপারে কেন্দুয়া থানা ওসি ( তদন্ত) হাবিবুল্লাহ খান জানান,এঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে মামলা রুজু করা হবে।