মদনে গুচ্ছ গ্রামের শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে

মদনে গুচ্ছ গ্রামের শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে

 

দন প্রতিনিধিঃ করোনা মহামারির মধ্যে বন্যা ও বর্ষার পানি কমে গেলেও চরম দূর্ভোগে রয়েছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার গুচ্ছ গ্রামের শতাধিক পরিবার। বন্যার পানিতে গুচ্ছ গ্রাম তলিয়ে গেলে অনেক ঘরের ভিটের মাটি সরে যাওযায় ঘরগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গুচ্ছ গ্রামে প্রবেশ করার কোনো রাস্তা না থাকায় ঘর থেকে বের হয়ে কাদা-পানি ভেঙে যাতায়াত করতে হয় তাদের। বিদুৎ সংযোগ না থাকায় ভূতূড়ে গ্রামে পরিণত হয়েছে। নেই অফিস, নামাজখানা,শিশুদের খেলাধুলার স্থান। বৃষ্টির জন্য কাজকর্ম করতে না পারায় অধিকাংশ পরিবারের লোকজন কর্মহীন হয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছে। হাওরপাড়ে নির্মিত গুচ্ছ গ্রামগুলোতে এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ না করলে বর্ষাকালে যে কোনো মুহূর্তে হাওরে গ্রামগুলো বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ওই গ্রামে বসবাসরত বাসিন্দারা। ঈদুল আযহার পর থেকে তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি কোন সাহায্য। ঘরগুলো সংস্কার করার সক্ষমতা না থাকায় অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে আশপাশের গ্রাম ও অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসসূত্রে জানাযায়, শেখ হাসিনার অবদান,গৃহহীনদের বাসস্থান গুচ্ছগ্রাম ২য় পর্যায়(সিভিআরপি) ২০১৮/১৯ অর্থবছরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ণে মদন উপজেলার হাওরা লে ছত্রমপুর গুচ্ছগ্রাম,ত্রিপন গুচ্ছগ্রাম,গোবিন্দশ্রী গুচ্ছগ্রাম ও বিয়াশি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়। ৪টি গুচ্ছগ্রামে ২৩০ টি পরিবারের বসবাস রয়েছে।

সোমবার সরজমিন বিয়াশি গুচ্ছ গ্রামে গেলে, ৩০/৩৫ টি পরিবার খুবই দূরাবস্থায় বসবাস করতে দেখা যায়। ২৫/৩০ টি ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে। গুচ্ছগ্রামে প্রবেশের কোনো রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ নেই,অফিস ঘর নেই, নামাজখানা নেই,শিশুদের খেলাধুলার কোনো স্থান নেই। বৃষ্টির জন্য কাজকর্ম করতে না পাড়ায় কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন-যাপন করছে অধিকাংশ পরিবার। খোজ নিয়ে জানাযায়, অন্য ৩টি গুচ্ছগ্রামের অবস্থাও অনুরোপ। সেখানের বসবাসরত বাসিন্দারাও খুবই দূর্ভোগে জীবন-যাপন করছেন।

বিয়াশি গুচ্ছগ্রামের বসবাসরত কমিটির সভাপতি ওয়াসিদ মিয়া, বাসিন্দা সুবেল,খসরু,নজরুল, সাইদুল, আজিজুল, করিম, হোসনা আক্তার জানান, আমরা গরীব মানুষ। আমাদের কোনো কিছু নেই বলেই গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নিয়েছি। বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করে যে ক্ষতি হয়েছে তা সরকার যদি সংস্কার না করে দেয় তাহলে এ গ্রামের ২৫/৩০ টি পরিবার যে ভাবে ঘর ছেড়ে চলে গেছে আমাদের অবস্থাও তা হবে। বৃষ্টির জন্য কাজকর্ম করতে না পাড়ায় কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন-যাপন করছি। ঈদের পর থেকে আমাদের ভগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি সাহায্য। গ্রামে প্রবেশের কোনো রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ নেই,অফিস ঘর নেই, শিশুদের খেলাধুলার কোনো স্থান নেই। গ্রামে কোনো নিরাপত্তা দেয়াল না থাকায় বর্ষাকালে হাওরের ঢেউয়ে ভাঙনের আতংকে হুমকিতে বসবাস করতে হয়। আমাদের বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য দুইটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল সরকার বরাদ্দ দেন। কিন্তু একটি চক্র টিউবওয়েলগুলো অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে চক্রান্ত করছে। আমরা সরকারের কাছে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করার সুযোগ চাই।

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বন্যা পরবর্তীতে পুণবাসন কার্যক্রম শুরু না করায় বিয়াশি গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা খুবই দূরাবস্থায় আছে। তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরোপন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। আদেশ পেলে কাজ শুরু করা হবে।  

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল তাদের দূর্ভোগের সত্যত্যা স্বীকার করে বলেন, অচিরেই তাদের খাদ্য সমস্যা সমাধানসহ উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, বন্যায় গুচ্ছগ্রামগুলোর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করা হচ্ছে।বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে অবগত করা হয়েছে। এ গ্রামগুলোতে সরকার কর্তৃক ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং হবে।