কলমাকান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে চাঁদাবাজী মামলা ;

কলমাকান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে চাঁদাবাজী মামলা ;
 
কলমাকান্দা   প্রতিনিধি :

সাত বছর ধরে পক্ষাঘাত (প্যারালাইস) বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. আওয়ালকে (৭৫) প্রধান আসামি করে চাঁদাবাজি মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় বার্ধক্যে আক্রান্ত মুক্তিাযোদ্ধার ছোট ভাই আব্দুল হামিদ ছোট্টনিকে (৭২) দ্বিতীয় আসামি করে ওই পরিবার আত্মীয় ও নারী সহ ১৮ জনের নামে ১০ লক্ষা টাকা চাঁদা দাবী উল্লেখ করে মামলা দায়ের হয়েছে নেত্রকোনার আদালতে।

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মামলাটি দায়ের করেছেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রহিমপুর গ্রামের আবুল হাসেম ওরফে আব্দুল হাসিম। এ মামলার প্রধান আসামিরা হলো একই এলাকার ও মামলার বাদী’র প্রতিবেশি। আদালত মামলাটি সিআইডির কাছে তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছেন এবং তা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি অভিযোগ অনুসন্ধানে সরেজমিনে গেলে পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. আওয়াল অত্যন্ত স্বল্প স্বরে বলেন, ‘ আমি ৬-৭ বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে দিনযাপন করতেছি। জমি সংক্রান্ত বিরোধে হাসিম আমার নামে চাঁদাবাজি কেইস দিছে। যা একেবারেই মিথ্যা। এতে নারী সহ আমি, আমার অসুস্থ ছোট ভাই ছোট্টনি সহ ১৮ জনের নাম দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ বিষয়ে মামলার বাদীর সাথে যোগায়োগ করা হলে আবুল হাসেম ওরফে আব্দুল হাসিম জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিজে বাদী হয়ে জেলা আদালতে চাঁদাবাজি মামলা করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি ৭ ধারা মামলা করার পর তারা ওই জায়গায় রাতের বেলায় ঘর উঠাইয়া ফেলে। আমার কাছে ১০ লক্ষ টাকা  চাঁদা দাবি করে। না দিলে আমরা ঘর তুলে ফেলবো বলছে মুক্তিযোদ্ধা আওয়ালের সন্তানেরা। পরে আমি চাঁদাবাজি মামলা করেছি। তার অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার পর উপজেলার রহিমপুর এলাকায় তার ওপর হামলা হয়। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়াল ও তার লোকজন রামদা, কিরিচ ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা হাসেমের পুকুর থেকে অনুমান তিন লাখ টাকার মাছ তুলে নেয় এবং ২০টি আকাশি গাছের চারা ও লাউগাছের বাগান নষ্ট করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ ছাড়াও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। হামলার ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন আবুল হাসেম। সেই মামলার এক নম্বর আসামি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়াল ও দুই  নম্বর আসামি বার্ধক্যে আক্রান্ত মুক্তিাযোদ্ধার ছোট ভাই আব্দুল হামিদ ছোট্টনিকে।

এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব জানান, মামলা প্রধান আসামি আওয়াল অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ ও গত সাত বছর ধরে পঙ্গু অবস্থায় আছেন। তার ছোট ভাই ছোট্টনিও বিছানায় শয্যাশায়ী। তারা চাঁদা দাবী করে এটা কোন অবস্থাতে বিশ্বাস যোগ্য নয়, হাস্যকরও বটে। এ গ্রামে আমরা ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং মামলার বাদী হাসিমকে বিচারের আওতায় আনা হোক বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. আব্দুল খালেক তালুকদার জানান, জমির সংক্রান্ত বিরোধে হাসিম নামে ৭৫ বয়সের পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. আওয়ালের নামে জেলা আদালতে চাঁদাবাজি মামলার কথা শুনেছি। অসুস্থ  বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. আওয়ালকে প্রধান আসামি করে চাঁদাবাজি মামলা করেছে। যা মিথ্যা মামলা, খুবই দুঃখজনক ও আমি ব্যথিত হয়েছি। এর তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানায়। পাশাপাশি ওই মামলার বাদী হাসিমের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানাচ্ছি।