দুর্গাপুরে মৃতু্য ঝুকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে হাজারো মানুষ

দুর্গাপুরে মৃতু্য ঝুকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে হাজারো মানুষ

 

 

দুর্গাপুর   প্রতিনিধি

নেত্রকোনার দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ ফেরিঘাট এক অসহ্য ভোগান্ত্মির নাম। গত ১৫দিন আগেও ৩০ জন যাত্রী সহ ডুবে গেল ফেরি পারাপারের নৌকা। এতে কোন প্রাণহানি না ঘটলেও জীবনের ঝুঁকি গেছে অনেকের উপর দিয়ে। হারিয়েছে মোটরসাইকেল সহ অনেক মুল্যবান দ্রব্যাদি। এ রকম ঘটনা প্রায় প্রতিনিয়তই ঘটছে এই ঘাটে।

এ নিয়ে শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পারাপারের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো চালিত হচ্ছে অদক্ষ চালক দ্বারা। সোমেশ্বরী নদীর এইঘাট দিয়ে প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন ধরনের মানুষজন নদী পার হয়ে থাকেন। নদীতে ব্রীজ না থাকায় নদী পাড়াপারের মানুষ সহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনেও ভোগান্ত্মিতে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত। নদীতে যখন পানি বাড়ে তখন একটি ছোট নৌকায় ৬-৭ টা মোটরসাইকেল সহ ২৫-৩০ জন মানুষ নিয়ে নদী পার হওয়া যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। নদীর দুই পাড়েও যাত্রী উঠানামায় রয়েছে নানা সমস্যা। ঘাটে ইজারা দারের নৌকা থাকলেও ব্যক্তি পর্যায়ে পারাপারের নৌকা না থাকায় দীর্ঘক্ষন দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। নদীতে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। দু'একদিন পর পরই পারাপারের জন্য নির্ধারিত ঘাট পরিবর্তন করতে হয়। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম থাকায় পাহাড়ী ঢলে নদী প্রায়ই ভরা থাকে। ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার করলেও নদীতে অতিরিক্ত পানি থাকালে নিরাপত্তা হীনতায় ভোগে সাধারণ যাত্রীগন। এই ঘাট দিয়ে স্থায়ী ব্রীজ নির্মানের পুর্বে সরকারি ফেরির মাধ্যমে মানুষ সহ লোকজন পারাপার এখন প্রাণের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ভোক্তভুগিরা।

এ নিয়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মোঃ হামিদুল ইসলাম জানান, দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ ঘাট দিয়ে মানুষ ও মালামাল পারাপারে সরকারি দেয়া প্রয়োজন। ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মানু মজুমদার সার উর্দ্ধতন মহলের সাথে যোগাযোগ করেছেন। আশা করছি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ ঘাটে ফেরি দেয়া সম্ভব হবে। 

দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ ঘাট দিয়ে পারাপারের দুর্ভোগ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম যুগান্ত্মর কে বলেন, ঘাটের দুই পার দিয়ে যাত্রী পারাপারের সমস্যার কথা আমি শুনেছি। ঘাট ইজারাদারদের সাথে কথা বলে পারাপারের জন্য নৌকা বাড়ানো সহ যাত্রী দাঁড়ানোর জায়গা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।