সরেজমিন প্রতিবেদন  নেত্রকোনায় জুয়ার আসর বন্ধ করে দেওয়ায়   ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ

সরেজমিন প্রতিবেদন  নেত্রকোনায় জুয়ার আসর বন্ধ করে দেওয়ায়   ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ

এ কে এম আব্দুল্লাহ্, নেত্রকোনা ঃ মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স এবং থানার দালালী, প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের মতো জঘন্য প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামানকে নানা ভাবে বিতর্কিত করতে উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের বরাবরে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন করে জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনের নামে থানা থেকে ওসিকে অপসারণে নানা ধরণের অপ-তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে।
    সরেজমিনে কেন্দুয়া থানার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি প্রভাবশালী  চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন নামে নানা পন্থায় জুয়ার আসর চালিয়ে সহজ সরল সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। কেন্দুয়া থানায় ওসি রাশেদুজ্জামান যোগদানের পর সকল শ্রেনী পেশার লোকজনের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি আইন শৃংখলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে মাদক ও জুয়া খেলার বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষনা করেন। একই সাথে থানার দালালী ও সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহনের কথা উল্লেখ করেন।  এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারীদের গ্রেফতার শুরু করে। গত ৪ মে কেন্দুয়া পৌর এলাকার সাউদপাড়ায় অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে দুই পৌর কাউন্সিলর ও এক ইউপি সদস্য সহ ৯ জুয়ারীকে আটক করা হয়। কেন্দুয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া তার ছোট ভাই পৌর কাউন্সিলর কাইয়ুম ভূইয়াসহ অন্যান্য জুয়ারীদের ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে না ছেড়ে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে কেন্দুয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন করে পুলিশ-মহা পরিদর্শক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের প্ররোচনায় তারই অনুগত পাড়াতলী গ্রামের মোঃ গোলাম মোস্তফার ছেলে কামরুল গত ১৫ জুন নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে ওসির বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলনে করে বলেন, তার ছোট বোন নুসরাত জাহান নাদিয়া ওরফে রোজিনা চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে ২৯ জানুয়ারী প্রিন্স কবীর খান বাবু নামক এক যুবক তাকে ধর্ষন করে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দিতে গেলে ওসি মামলা না নিয়ে উল্টো তার বোনকে বেশ্যা বলেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে ওসির প্রত্যাহার দাবী করে।  সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে কথা হয় ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন্দুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহ্মুদুল হাসান ও ওসি (তদন্ত) মোঃ হবিবুল্লাহর সাথে। তাঁরা এই প্রতিবেদককে জানায়, গত ২৯ জানুয়ারী কেন্দুয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হোটেল নুরজাহানে একটি মেয়েকে নিয়ে গন্ডগোল হচ্ছে, হোটেল ম্যানেজারের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোজিনাসহ দুইজন ছেলেকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে রোজিনা জানায় সে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষার্থী হওয়ার পরও সে সন্ধ্যায় হোটেলে কেন এ প্রশ্নের জবাবে সে পুলিশকে জানায়, প্রিন্স কবীর খান বাবু নামক একটি ছেলের সাথে তার দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তাকে বিয়ে করবে বলে হোটেলে আসতে বলায় সে তার দুজন বন্ধুকে নিয়ে ঐস্থানে অবস্থান করছিল। অন্যান্য ছেলেরা তাকে নিয়ে উত্যক্ত করায় হোটেলে হট্টগোল হয়েছে। বাবু কোথায় পুলিশ জানতে চাইলে রোজিনা জানায়, বাবু কথা দিয়েও বিয়ে করতে হোটেলে আসেনি। সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবু আমাকে তার স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা করব, আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব। ধর্ষনের বিষয়টি জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, তদন্তে বাবুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমানীত হয়নি।  
     রোজিনা আদৌ এস এসসি পরীক্ষার্থী কি-না সে বিষয়টি জানতে কথা হয় মজলিশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন চন্দ্র দেবনাথ সাথে। তিনি বলেন, সে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত ছাত্রী হিসেবে অংশ গ্রহন করে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সে অত্র বিদ্যালয় হতে কোন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে নাই। এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রশ্নই আসে না। 
    রোজিনা কেমন মেয়ে বিষয়টি জানতে কথা হয় পাড়াতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, রোজিনা জেএসসি পরীক্ষা দেয়ার আগেই একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম নামক এক ছেলের সাথে দুই বার পালিয়ে গিয়েছিল। পরে ২০১৭ সালের ২রা জানুয়ারী জাহাঙ্গীর আলমের সাথে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেন মোহরে বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে সে বিভিন্ন সময় ছেলেদের প্রেমের ফাঁেদ ফেলে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। 
    কেন্দুয়া উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বিপুল বলেন, কেন্দুয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়ার ছত্রছায়ায় একটি প্রভাবশালী চক্র গোপনে জুয়ার আসর চালাতো। জুয়া খেলার আসর বন্ধ করে দেয়ায় এ চক্রটি ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন করে তাকে বিতর্কিত করার পাশাপাশি কেন্দুয়া থেকে অপসারণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।