কেন্দুয়ায় চাঞ্চল্যকর রহিমা হত্যা মামলার বাদী স্বামী ও ছেলে গ্রেফতার

 কেন্দুয়ায় চাঞ্চল্যকর রহিমা হত্যা মামলার বাদী স্বামী ও ছেলে গ্রেফতার

এ কে এম আব্দুল্লাহ, নেত্রকোনা ঃ কেন্দুয়া থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর রহিমা হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে মামলার বাদী স্বামী রিটন মিয়া (৪৫) ও তার ছেলে আসাদুলকে (২০) গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর তাদেরকে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে মামলার আসামী করে বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা আদালতের প্রেরণ করলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
      গ্রেফতারকৃত রিটন মিয়া কেন্দুয়া উপজেলার মাস্কা ইউনিয়নের পানগাঁও পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর ছেলে। 
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে খুন হন রহিমা আক্তার। এ ঘটনায় স্বামী রিটন মিয়া বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারী একই গ্রামের ১৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের কিছুদিন পরই মামলাটি সিআইডিতে হন্তান্তর করা হয়। সিআইডি তদন্ত শেষে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই’র তদন্ত শেষে আবারো মামলাটি নেত্রকোনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বেশ কয়েকটি সংস্থা মামলাটির তদন্ত করলেও রহিমা হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ চলতি বছরের ১০ ফেব্রæয়ারী মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেন্দুয়া সার্কেল) মাহ্মুদুল হাসানকে দায়িত্ব প্রদান করেন। কেন্দুয়া সার্কেল দায়িত্ব পাওয়ার পর পূনরায় মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত কালে মামলার বাদী ও তার ছেলেকে সন্ধিগ্ধ মনে হওয়ায় কেন্দুয়া থানা পুলিশ গত ২৮ জুলাই কেন্দুয়া বাজার এলাকা থেকে মামলার বাদী রিটন মিয়া ও তার ছেলে আসাদুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে দু দিনের রিমান্ডে আনা হয়। 
     বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেন্দুয়া সার্কেল) মাহ্মুদুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে রহিমা হত্যা মামলার বাদী স্বামী রিটন মিয়াসহ তার ছেলে আসাদুলকে গ্রেফতারের পর দুদিন রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। রিমান্ডে মামলার বাদী ও তার ছেলের দেয়া তথ্য মতে এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অচিরেই এ চাঞ্চল্যকর রহিমা হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মামলার স্বার্থে এই মূহুর্তে সব খুলে বলা সম্ভব নয়। রিমান্ড শেষে বাদী ও তার ছেলেকে রহিমা হত্যা মামলার আসামী করে বুধবার আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।