কেন্দুয়ায় এক নারীর কথিত ধর্ষনের  ঘটনা নিয়ে সব মহলে তোলপাড়

কেন্দুয়ায় এক নারীর কথিত ধর্ষনের  ঘটনা নিয়ে সব মহলে তোলপাড়

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া  প্রতিনিধি : কেন্দুয়ায় এক নারীর কথিত ধর্ষনের ঘটনা নিয়ে ২/৩ দিন ধরে সব মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। থানায় ধর্ষনের মামলা না নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে কেন্দুয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন জনের পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস। চার মাস আগে ধর্ষনের ঘটনা ঘটলেও গত কয়দিন ধরে আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে এটি। বিব্রত স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের সদস্যরা। কেন এই অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি লেখালেখি? ওই নারীর গ্রামের বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের পাড়াতলি গ্রামে। তার ভাই কামরুল ইসলাম সোমবার নেত্রকোনা প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, তার বোনকে কেন্দুয়ার ছিলিমপুরের বাবু নামের এক যুবক চার মাসে আগে ধর্ষন করলেও কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান থানায় কোন মামলা নেননি। বরং উল্টো তার বোন এবং তার কাছ থেকে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নিয়েছেন। কামরুল ইসলাম তার বোনের ধর্ষনের ঘটনায় বিচার দাবী করে পুলিশের বিভিন্ন শাখায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারী উপজেলা সদরের বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় নূরজাহান হোটেলের ম্যানেজার সাইদুল ইসলাম থানার ডিউটি অফিসারকে মোবাইল ফোনে জানান, হোটেলে একটি মেয়ে এসেছে। ওই মেয়েকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ছেলে ঝগড়া বিবাধ করছে। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। সেখানে মেয়ে সহ দুই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। উদ্ধারের পর ওই নারী পুলিশকে জানায় ছিলিমপুর গ্রামের প্রিন্স কবীর খান বাবু নামে এক যুবক তাকে ধর্ষন করেছে। এ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। কেন্দুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ও পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুল্লাহ খান যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেন। সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার ১৬ জুন মঙ্গলবার জানান, নূরজাহান হোটেল থেকে ওই নারীকে উদ্ধারের সময় সঙ্গে দুই যুবক ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তখন তিনি পুলিশকে জানান, বাবু নামে এক ছেলের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। দুই যুবক তার কোন ক্ষতি করেনি। তিনি আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই নারী একেকবার একেক কথা বলেছেন। তাই তার কথাবার্তা সঠিক ভাবে যাচাই বাছাইকরতে তদন্তে ধর্ষনের কোন সত্যতা মেলেনি। তদন্তে বেরিয়ে আসে ওই নারীর এর আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল, একটি সন্তানও আছে। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে এখন আর তার কোন সম্পর্ক নেই। প্রিন্স কবীর খান বাবুর বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, বাবু একজন ব্যবসায়ী। এই পরিচয়েই তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে নারীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে। এর পর এই নারী বাবুর নাম্বারও নেয় বাবুও নারীর নাম্বার রাখে। তারা একে অপরের সঙ্গে বিভিন্ন সময় মোবাইলে কথা বার্তা বলতেন এ প্রমান মিলেছে। ওসি ধর্ষনের মামলা না নেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তে পেয়েছি ওই নারী ধর্ষনের শিকার হননি এবং থানায় কোন লিখিত অভিযোগও দেননি। এটি একটি সাজানো নাটক বলেই মনে হয়। এ প্রসঙ্গে কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, হোটেল থেকে যেদিন দুই যুবক সহ নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ, সেদিন আমি থানায় ছিলামনা। তাই সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ও পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুল্লাহ খান ওই নারীর কথামত তদন্ত করেছে। তদন্তে ধর্ষনের কোন প্রমাণ মিলেনি। তাছাড়া ওই নারী থানায় ধর্ষনের কোন লিখিত অভিযোগও দেননি। একটি কুচক্রি মহলের শলাপরামর্শে আমার বিরুদ্ধে অযথা মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন, গত ৪ জুন রাতে পৌরশহরের সাউদপাড়া এলাকায় দুই কাউন্সিলর ও
 এক ইউপি মেম্বার সহ ৯ জুয়ারীকে জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি ও নগদ দেড় লক্ষাধিক টাকা সহ গ্রেফতার করে জুয়া আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জামিনে আসার ২/৩ দিন পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে নানা সাজানো অভিযোগ পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় দেয়া হচ্ছে। এই ৯ জনের মধ্যে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন ভ‚ঞার ছোট ভাই পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম ভ‚ঞাকে জুয়া খেলা থেকে আটক করা হয়েছিল। এর পর থেকেই এই চক্রটি আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে নানান সাজানো মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরছে। তিনি বলেন, সাজানো অভিযোগ দিয়ে পুলিশ বাহিনীর সম্মানহানীর জন্য এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন ভ‚ঞার কাছে নারী ধর্ষনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩১ জানুয়ারী ওই নারীর ভাই কামরুল ইসলাম সাড়ে ১১টার দিকে আমার অফিসে এসে জানায় ধর্ষনের ঘটনা ঘটলেও থানার ওসি কোন মামলা নেয়নি। পরে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে জোর করে ওসি রাশেদুজ্জামান স্বাক্ষর নিয়েছেন বলে আমাকে জানান কামরুল। আমি বিষয়টি নেত্রকোণা পুলিশ সুপারকে জানাতে বলি। পরে সেখানে কিভাবে জানিয়েছে তা আমাকে আর জানানো হয়নি। কিন্তু পুলিশ সুপারকে কেন জানানো হল, সেজন্য ওসি রাশেদুজ্জামান আমাকে ফোন করে বলেছেন, এস.পি স্যারকে ঘটনাটি জানানো ঠিক হয়নি। কেন্দুয়া পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ কামরুল হাসান বলেন, ওই নারী কোন ধর্ষনের শিকার হয়নি। ঘটনা শুনে সেদিন আমি, চিরাং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শামছু মহাজন ও সাধারন সম্পাদক এনামুল কবীর খান থানায় গিয়েছিলাম। ওই নারীর একেক সময় একেক রকমের কথাবার্তা শুনে বিষয়টি আমাদের কাছেই হাস্যকর মনে হয়েছে। তার ভাই কামরুল নিজেও স্বীকার করেছে এরকম আরো ঘটনা নিয়ে তারা পারিবারিক ভাবেও বিব্রত।